১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের আশ্বাস

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৯:৫২ অপরাহ্ন, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১১:০৭ অপরাহ্ন, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত
  • জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে তারেক রহমানের বৈঠক, লালগালিচা সংবর্ধনা
  • জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ
  • রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
  • দেশে ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা
  • ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাব, তারেক রহমানকে নিয়ে এক্স পোস্টে তাকাইচি

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। জাপানের রাজধানী টোকিওতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন (৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডরার) পর্যন্ত বিনিয়োগের পূর্বাভাসকে স্বাগত জানানো হয়েছে। এ বিনিয়োগের ফলে উৎপাদন, কৃষি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং ওষুধশিল্পে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাতারবাড়ীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন, জরুরি ঋণ সহায়তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ও উঠে এসেছে। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ও জাপান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্বে’ উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও জাপানের ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা বিগ-বি (ইওএ-ই) সম্প্রসারণ করে ‘ইওএ-ই ভড়ৎ ঝযধৎবফ চৎড়ংঢ়বৎরঃু’ বা ‘যৌথ সমৃদ্ধির জন্য বিগ-বি’ ধারণা এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এ উদ্যোগের আওতায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অবকাঠামোকে সমন্বিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ী-মহেশখালী অঞ্চলকে আন্তর্জাতিক লজিস্টিকস, জ্বালানি ও শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে।

পাঁচ বছরে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান দুই লাখ: বাংলাদেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশাসনের সংস্কারমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। আগামী ৫ বছরে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের পূর্বাভাসকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। এই বিনিয়োগ উৎপাদন, কৃষি, আইসিটি ও ওষুধশিল্পে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে তিনটি সহযোগিতা স্মারক বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথা জানানো হয়েছে। প্রথম সমঝোতা স্মারকটি ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন সংক্রান্ত। জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে স্বাক্ষরিত এ স্মারকের লক্ষ্য করব্যবস্থা, শুল্কায়ন, লভ্যাংশ ও রেমিট্যান্স পাঠানো এবং লাইসেন্সিং সংক্রান্ত জটিলতা কমানো। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব প্রক্রিয়ায় পূর্ণ স্বচ্ছতা ও নিয়মকানুন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য দুটি সমঝোতা স্মারক কৃষি ও মৎস্য খাতের সহযোগিতাসংক্রান্ত। খাদ্য, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে জাপানি প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ আকর্ষণ করাই এসব উদ্যোগের লক্ষ্য। এদিকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গতিশীল করতে শিগগিরই জাপানের একটি উচ্চপর্যায়ের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠিয়েছে রাশিয়া

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ও মেট্রোরেল প্রকল্প: বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালু করা এবং ঢাকা মেট্রোরেলের (এমআরটি) নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও অস্থিরতা মোকাবিলা এবং বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জাপানের ‘চঙডঊজজ অংরধ’ কর্মসূচির আওতায় ৫০ বিলিয়ন ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণ নিশ্চিত করার কথা জানানো হয়েছে।

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম হস্তান্তর ও উপকূলীয় নিরাপত্তা: ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত চুক্তি কার্যকর করার বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ ও জাপান। বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে জাপান দুটি কর্মসূচির আওতায় নৌযান সহায়তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। জাপানের সরকারি উন্নয়ন সহায়তা (ওডিএ) কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে একটি পেট্রোল ভেসেল এবং অফিশিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স (ওএসএ) কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি পেট্রোল বোট দেওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন: থামছে না মৃত্যু মিছিল, একদিনে ডেঙ্গু ও হামে ঝরল ১৮ প্রাণ

অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি ও আরসিইপি-তে অন্তর্ভুক্তি: মুক্ত ও ন্যায্য আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বজায় রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। চুক্তিটি স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের সুষম ও টেকসই উত্তরণে সহায়ক হবে বলে যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির অনুরোধ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে জাপান। মিয়ানমারের চলমান সংকট এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ে। দুই নেতা একমত হয়েছেন, রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনই সংকটটির একমাত্র স্থায়ী সমাধান।

গাজা, ইউক্রেন ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা: গাজা সংকটের সমাধানে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি লোহিত সাগরে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা এবং ইউক্রেন যুদ্ধসহ বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন তারা। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় এসব নীতির গুরুত্বের উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নির্বাচিত হওয়ায় তাকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে দু’দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’তে উভয় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় এ শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপান সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। বাংলাদেশকে একটি অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ  স্বাধীন হওয়ার পর জাপান প্রথমদিকের স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর একটি এবং স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন আকাক্সক্ষার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুইবার জাপান সফর এবং তার মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

এ ক্ষেত্রে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সাম্প্রতিক ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাপানের কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ মেধাবী, উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি খাতের দক্ষ জনশক্তির সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।প্রস্তাবিত টেক পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস এবং ইলেকট্রনিকস উৎপাদনের মতো খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে জাপানের অগ্রসর সক্ষমতার সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণেও তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়া দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে আধুনিক ও সমন্বিত যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ লক্ষ্যে দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

জাপানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে বৈঠকে জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত বাংলাদেশে জাপানি টিম পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে তার সরকার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, করনীতি, শুল্ক ছাড়করণ এবং অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ চুক্তির সুফল দুই দেশের জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উভয় পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে। জাতিসংঘ, ইন্দো-প্যাসিফিক ও রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তার সভাপতিত্বে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান একটি অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কথা পুনর্ব্যক্ত করে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। এ সময় মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘ্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তারেক রহমান। এ সময় রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সবপক্ষের সঙ্গে জাপানের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এ সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে। যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব, সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি এ শীর্ষ বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এ অধ্যায় আরও গভীর আস্থা, বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শক্তিশালী বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে। দুই দেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতগুলো চিহ্নিত ও সেগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং সহযোগিতার সুযোগগুলোকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে মন্ত্রীপর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বৈঠকে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের অভিন্ন আকাক্সক্ষা আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এ সময়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তিনি বাংলাদেশকে এমন এক বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে অভিহিত করেছেন, যারা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো মূল্যবোধে বিশ্বাসী। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় উন্নয়নে তারেক রহমান সরকারের প্রচেষ্টার প্রতি জোরালো সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের জাপান সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার টোকিওতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শেষে নিজের অফিসিয়াল ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে জাপানের প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো অভিন্ন মূল্যবোধের অংশীদার বন্ধু হিসেবে, প্রধানমন্ত্রী রহমানকে তার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ব্যক্তিগতভাবে অভিনন্দন জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। তাকাইচি বলেন, গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বাংলাদেশ সরকারের জাতি গঠনমূলক উদ্যোগগুলোকে জাপান দৃঢ়ভাবে সমর্থন করবে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত রহমান প্রশাসনের জাতি গঠনমূলক প্রচেষ্টাকে জাপান জোরালো সমর্থন দেবে। এই বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রতি জাপানের স্বীকৃতি এবং নতুন সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করার আগ্রহ ফুটে উঠেছে। তাকাইচি বলেন, ‘মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক’ অঞ্চল গড়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাপানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তিনি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে সংযুক্তকারী বাংলাদেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, উভয় নেতা ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। এই উদ্যোগটি দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি মূল ভিত্তি। 

দুই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই উদ্যোগটিকে ‘শেয়ারিং প্রসপারিটি বিগ-বি’ নামক একটি নতুন কৌশলগত সহযোগিতা কাঠামোয় উন্নীত করা হবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশকে ১৭ কোটি মানুষের একটি বিশাল ও তরুণ জনগোষ্ঠীর বাজার হিসেবে বর্ণনা করেন, যা জাপানের অর্থনীতির জন্য ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়াকে সংযুক্তকারী বাংলাদেশ জাপানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের আলোচনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তাকাইচি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করেছেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরপরই জাপান যে স্বীকৃতি দিয়েছিল, তার প্রশংসা করেছেন। তাকাইচির ভাষ্যমতে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের প্রতি জাপানের অবিচল সমর্থনের কথা স্বীকার করেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দেশ সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও জোরদার করতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। তিনি শীর্ষ সম্মেলনের পর প্রকাশিত যৌথ বিবৃতির কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। তিনি লেখেন, আমাদের দুই দেশের ‘কৌশলগত অংশীদারিত্বের’ আওতায়—এবং আজ ঘোষিত ‘নেতৃবৃন্দের যৌথ বিবৃতি’র আলোকে—আমরা সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের উদ্যোগের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করব। তাকাইচি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে আমি প্রধানমন্ত্রী রহমানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করব। এই দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলন বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদার করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। উভয় নেতাই অভিন্ন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতি তাদের অঙ্গীকারের ওপর জোর দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন- ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী ও আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় বিদেশ সফর। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। এছাড়া গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে