পোশাক খাতে অরাজকতা ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে সরকার

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১০:৪২ অপরাহ্ন, ০২ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪৬ অপরাহ্ন, ০২ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

পোশাক খাতে অস্থিরতা ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। চলমান আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে গেছে বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একটি স্বার্থান্বেষী মহল এই আন্দোলনে ঢুকে গেছে জানিয়ে এই ফাঁদে পা না দিতে পোশাক শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী। 

ঢাকার মিরপুর, সাভার, আশুলিয়ায় ও গাজীপুরের তৈরি পোশাকশ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পেছনে তৃ তীয় পক্ষের ইন্ধন এবং দেশি-বিদেশি চক্রান্ত রয়েছে বলে দাবি করেছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। 

আরও পড়ুন: মক্কায় ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: তিন সপ্তাহেও সৌদির জবাব পায়নি ঢাকা

তাদের দাবি, সরকার ইতিমধ্যে শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মজুরি বোর্ড গঠন করলেও একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের ইন্ধনদাতাদের সম্পর্কে পুলিশের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। একইসঙ্গে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে  সহিংসতা, ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পুলিশ। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার  দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় অন্তত ১৩ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় এ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন ২৯ জন। 

গতকাল সোমবার বিকেলে পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি মহিদুল ইসলাম এই তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়া আবারও উত্তপ্ত সাভার ও আশুলিয়ার তৈরি পোশাকশিল্প এলাকা। শতাধিক কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় নামেন। একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে দেড় শতাধিক আহত হয়েছেন। দু’জনকে গ্রেফতার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। 

আরও পড়ুন: ২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন, অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা

এদিকে, শ্রমিক আন্দোলনে উত্তপ্ত গাজীপুরের দুই মহাসড়ক। ইতিমধ্যে ছুটি দেওয়া হয়েছে দেড় শতাধিক কারখানা। এসব কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে তাদের একাধিকবার সংঘর্ষ ও ধাওয়া পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। আহত হয়েছে সাংবাদিকসহ বিজিবি সদস্য। 

ওদিকে নারায়ণগঞ্জে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা। এসময় লিংক রোডের শিবু মার্কেট, জালকুড়ি, ভুইগড় এলাকায় অবস্থান নেয় শ্রমিকরা। সড়কে আগুন জ্বেলে এবং প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যান চলাচল আটকে রাখে। 

পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি মহিদুল ইসলাম বলেন, কেউ যাতে শ্রমিক আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা করতে না পারে, সেজন্য মিরপুর এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। এছাড়া মিরপুরে সড়কে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। একইসঙ্গে, যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে। 

তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ে কেউ যাতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে গোয়েন্দা পুলিশ দাবি করে গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী রয়েছে। শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সোমবার দুপুরে মিরপুর মডেল ও পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) এসব তথ্য জানান। 

মিরপুর মডেল থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান জানান, ট্রাফিক বক্স ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় তার থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা তিন হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। 

ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, আজও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা যাচাইবাছাই করা হচ্ছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। 

অন্যদিকে পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন জানান, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও ট্রাফিক বক্স ভাঙচুরের অভিযোগে তার থানায় তিনটি মামলা হয়েছে। সব মামলার বাদী পুলিশ। 

ওসি জালাল উদ্দিন আরও জানান, প্রতিটি মামলায় অজ্ঞাতনামা দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আশুলিয়ায় পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে আহত ১৫০, কাভার্ডভ্যানে আগুন: পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর দাবিসহ কয়েক দফা দাবিতে বিক্ষোভের ৫ম দিনে আবারও উত্তপ্ত সাভার ও আশুলিয়ার তৈরি পোশাকশিল্প এলাকা। শতাধিক কারখানার শ্রমিকরা রাস্তায় নামেন। একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দিয়েছে দুষ্কৃ তকারীরা। পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষে দেড় শতাধিক আহত হয়েছেন। দুজনকে গ্রেফতার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। এদিকে দু’শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। 

সোমবার সকালে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর এবং সাভারের হেমায়েতপুরে। এতে কমপক্ষে দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। শিল্প পুলিশের ও কয়েকজন সদস্য আহতের খবর জানা গেছে।  এর জের ধরে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় একটি পোশাক কারখানার কাভার্ডভ্যানে আগুন দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা। সংঘর্ষের কারণে শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। গত কয়েকদিনের আন্দোলনে সাভার ও আশুলিয়ায় ২৩০টি গার্মেন্টস কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাভারের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু। 

শ্রমিকদের সড়ক অবরোধে মহাসড়ে তীব্র যানজট পরিদর্শনে এসে তিনি আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বলেন, পতিত সরকারের দোসররা সাভার ও আশুলিয়ায় পোশাক খাতকে অস্থিতিশীল করে আন্দোলন করার চেষ্টা করছে। বহিরাগতরা শ্রমিকদের কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে নাশকতা সৃষ্টি করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করছে। একই সঙ্গে সাভার শিল্প পুলিশ থেকে অভিযোগ করা হয়, শ্রমিকদের কারকানা বন্ধ করে মহাসড়ক চলে আসতে বাধ্য করছে বহিরাগতরা। শান্তিপ্রিয় শ্রমিরাও কারখানা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছে। সোমবার সকাল ১০টার পর আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকায় শ্রমিকপুলিশ সংঘর্ষ শুরু হয়। এর পর সাভারজুড়ে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এসে যানচলাচলে অবরোধ সৃষ্টি করে ফেলে। ফলে দফায় দফায় শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরাতে  লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আশুলিয়ায় সকালে শ্রমিকেরা প্রথমে অনন্ত গ্রুপের কারখানা এবং পরে হা-মীম গ্রুপের কারখানার সামনে জড়ো হন। বিভিন্ন দাবিতে সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। সংঘর্ষের মধ্যে বেলা ১২টায় নরসিংহপুরের নদী ফিলিং স্টেশনের সামনে একটি পোশাক কারখানার কাভার্ডভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সড়কের পাশের অধিকাংশ চালু পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নরসিংহপুরের নিউএজ কারখানার শ্রমিকেরা কর্মবিরতি শেষে কারখানা থেকে বেরিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের সময় ইটপাটকেলের আঘাতে শিল্প পুলিশ-১-এর এএসপি (অপারেশনস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স) শোয়েব আহমেদ সামান্য আহত হন।

তিনি জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন এবং আমাদের অনেক পুলিশ আহত হয়েছেন। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত এলাকা জুড়ে  থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। শ্রমিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মুখোমুখি অবস্থানে আছেন। তবে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 

আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান,  শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনায় দুজনকে দুপুর দেড়টার দিকে বাইপাইল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে তারা শ্রমিক  না বহিরাগত তা এখনও যাচাই বাছাই করা হয়নি। গাজীপুরে পুলিশের ৩ গাড়ি ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ, সাংবাদিক ও বিজিবি সদস্য আহত: শ্রমিক আন্দোলনে উত্তপ্ত গাজীপুরের দুই মহাসড়ক। ইতিমধ্যে ছুটি দেওয়া হয়েছে দেড় শতাধিক কারখানা। এসব কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করছেন। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে পুলিশ ও বিজিবির সঙ্গে তাদের একাধিকবার সংঘর্ষ ও ধাওয়া পালটা ধাওয়ার দেওয়া ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। আহত হয়েছে সাংবাদিকসহ বিজিবি সদস্য। সোমবার সকাল থেকে গাজীপুরে ঢাকাটাঙ্গাইল মহাসড়কের সফিপুর পল্লীবিদ্যুৎ ও চন্দ্রা এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। সকাল ১১টার দিকে শ্রমিকদের ছাত্র ভঙ্গ করতে বিজিবি ও পুলিশ ধাওয়া দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীদের ইটের আঘাতে বিজিবি সদস্য আহত হয়। অপরদিকে দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় পুলিশের একাধিক গাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। ওই সময় সময় টিভির রিপোর্টার ও ক্যামেরাপারসনের উপর হামলা করে ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। এসএ টিভির ক্যামেরা পারসন পায়ে আঘাত পান। 

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, সোমবারও শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন। শ্রমিক আন্দোলনের কারণে দেড় শতাধিক কারখানা ছুটি দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে বিজিবি, জেলা ও মহানগর পুলিশের সঙ্গে শিল্প পুলিশ কাজ করছেন। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করে শ্রমিকদের বিক্ষোভ: ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে ঢাকা- নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা। সোমবার বেলা সাড়ে ১২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখেন তারা। এসময় লিংক রোডের শিবু মার্কেট, জালকুড়ি, ভুইগড় এলাকায় অবস্থান নেয় শ্রমিকরা। সড়কে আগুন জ্বেলে এবং প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যান চলাচল আটকে রাখে তারা। এরপর দুপুরে শিবু মার্কেট, কাঠেরপুল এলাকার ছোট-বড় ২০টি কারখানা থেকে শ্রমিকরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। প্রথমে শিবু মার্কেট অবরোধ করলেও পরে তারা মিছিল নিয়ে সাইনবোর্ডের দিকে অগ্রসর হয়। এসময় ভুইগড়ের কাছাকাছি এসবি গার্মেন্টস থেকে শ্রমিক নামিয়ে আনতে যায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। কারখানা কর্ত ৃপক্ষ আপত্তি করলে কারখানায় ইটপাটকেল ছুড়ে কাচ ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ছুটি দেওয়া হয় কারখানাটি। 

এদিকে, সড়কে যান চলাচলে বাধা দিলেও কোনো গাড়ি ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সংবাদকর্মীদের সংবাদ সংগ্রহে দেখলেই আক্রমণাত্মক হতে দেখা গেছে শ্রমিকদের। বেলা আড়াইটার দিকে ভুইগড় মোড়ে শক্ত অবস্থান নেয় পুলিশ ও বিজিবি। শ্রমিকরা মুখোমুখি হতেই তীব্র বৃষ্টিতে উভয়পক্ষই সড়ক ছেড়ে দেয়। বেলা ৩টা নাগাদ বৃষ্টি থামলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, ৩টা থেকে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। আশা করছি আধাঘণ্টার মধ্যে যানজট মুক্ত হয়ে রাস্তার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।