আন্দোলনে সহিংসতা-ভাঙচুরে ভাড়াটে লোক নিয়োগের অভিযোগ শ্রমিক নেতাদের

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৪:১১ অপরাহ্ন, ০২ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৫:১২ অপরাহ্ন, ০২ নভেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক আন্দোলনে সহিংসতা ও ভাঙচুরের জন্য বাইরে থেকে ভাড়াটে লোক নিয়োগ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন শ্রমিক নেতারা। একই সঙ্গে টানা আন্দোলন ও সহিংসতা অব্যাহত থাকলে বিদেশি ক্রেতারা পোশাকের ক্রয়াদেশ অন্য দেশে সরিয়ে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

সোমবার (২ নভেম্বর) গঠিত মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধিদের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নেতারা। এ সময় চলমান মজুরি আন্দোলনে গ্রেপ্তার শ্রমিক ও নেতাদের মুক্তি, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের দাবি জানান তারা। পাশাপাশি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আন্দোলন বন্ধের আশ্বাস দেন শ্রমিক প্রতিনিধিরা।

আরও পড়ুন: ভূমিকম্প সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

তৈরি পোশাকশিল্পে মজুরি বৈষম্য, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও চাকরির অনিশ্চয়তা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং অন্যায্য ছাঁটাই বন্ধের দাবিতে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুর ও সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলন করছেন শ্রমিকরা।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা দাবি করেন, আন্দোলনের নামে ভাঙচুর ও হামলার সঙ্গে প্রকৃত শ্রমিকদের সংশ্লিষ্টতা নেই। এসব সহিংস কর্মকাণ্ডে বাইরে থেকে লোক ভাড়া করে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

আরও পড়ুন: আগামীকাল মির্জা ফয়সল আমীন ও এলিজা জামানের শপথ

সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, মিরপুরে শ্রমিকদের আন্দোলনের সঙ্গে হোপ মার্কেটের আন্দোলনরত ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা জড়িত। অন্যদিকে, গাজীপুরে শ্রমিকদের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও আন্দোলনে নেমেছেন।

শ্রমিক নেতারা বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে দেশের রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে, বিদেশি ক্রেতারা ক্রয়াদেশ অন্য দেশে সরিয়ে নিলে শিল্পটির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চলমান মজুরি আন্দোলনে গ্রেপ্তার শ্রমিক ও নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান প্রতিনিধিরা। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং অন্যান্য ধরনের হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানান তারা। এ ছাড়া জানুয়ারির মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের দাবি জানান শ্রমিক নেতারা।

শ্রমিক নেতাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আখতার বলেন, গ্রেপ্তার নেতাদের যেন কোনো ধরনের নির্যাতন করা না হয়। একই সঙ্গে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

বাবুল আখতার আরও জানান, সোমবার শ্রমিকদের আন্দোলন অনেকটাই কমে এসেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে আন্দোলন প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশা করছেন তারা।