ভারতের বিতর্কিত ওয়াকফ বিল বাতিলের দাবি ‘ইয়াং মুসলিম ইন্টেলিজেনশিয়ার’
ভারতের লোকসভায় পাস হওয়া বিতর্কিত ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল ২০২৫-এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইয়াং মুসলিম ইন্টেলিজেনশিয়া। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, এই বিল ভারতের মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার খর্বের উদ্দেশ্যে পাস করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মুসলমানদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান—মসজিদ, মাজার, দরগাহ, খানকা ইত্যাদি ওয়াকফভিত্তিক সম্পত্তিতে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এই আইন মুসলমানদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বাধিকার ধ্বংসের একটি রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টা। এটি উপনিবেশিক আমলের লাখেরাজ সম্পত্তি অধিগ্রহণ আইনের অনুরূপ। তারা দাবি করে, বিজেপি সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতাবাদের সুযোগ নিয়ে গণতন্ত্রকে কেবল আইনি কাঠামোর মধ্যে আবদ্ধ রেখে সংখ্যালঘুদের অধিকার হরণ করছে।
আরও পড়ুন: আইকাও’র সহযোগিতায় সিভিল এভিয়েশন একাডেমিতে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
তারা জানান, ভারতের সুফি-দরবেশদের প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির ঐতিহ্য আজ ভেঙে ফেলা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি মুসলমানদের মতোই ভারতীয় মুসলমানরাও আজ নিপীড়নের শিকার—ধরন ও মাত্রা ভিন্ন হলেও মূল চরিত্র একই।
বাংলাদেশ ইয়াং মুসলিম ইন্টেলিজেনশিয়া ভারত সরকারের এ পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিলটি বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান উপদেষ্টাকে কূটনৈতিকভাবে ভারতের মুসলিম সংখ্যালঘুদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানায় সংগঠনটি।
আরও পড়ুন: কুরবানি কাদের ওপর ওয়াজিব? জেনে নিন নেসাব
বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ মিফতাহুন নূর মাইজভাণ্ডারী, ইসলামি বক্তা সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান আল আজহারী, লেখক ভূঁইয়া মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রাবন্ধিক মোহাম্মদ আবু সাঈদ, মুফতি আ ন ম ছাইফুল্লাহ, অ্যাডভোকেট রিদুয়ানুল ইসলামসহ আরও অনেকে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইয়াং মুসলিম ইন্টেলিজেনশিয়া একটি নাগরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক প্ল্যাটফর্ম, যা তরুণ আলেম, লেখক, চিন্তক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত। সংগঠনটি জ্ঞানতাত্ত্বিক চর্চা, নাগরিক অধিকার ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে।





