বিজয়া দশমী আজ, প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:০১ অপরাহ্ন, ২১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১০:৫৭ অপরাহ্ন, ২১ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাক-শঙ্খের ধ্বনি আর বিষাদের সুরে বিদায় জানানো হবে দেবী দুর্গাকে। সিঁদুর খেলায় মেতে উঠবেন সনাতনী নারীরা, দিন শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব।  বুধবার (২১ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমী। দিনভর পূজা-অর্চনা, সিঁদুর খেলা ও নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানাবেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এর মধ্য দিয়ে শেষ হবে তাঁদের পাঁচ দিনের প্রধান ধর্মীয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

বিজয়া দশমী এলেই মণ্ডপে মণ্ডপে আনন্দের পাশাপাশি নেমে আসে বিদায়ের বিষাদ। হিন্দুশাস্ত্রের বিশ্বাস অনুযায়ী, মর্ত্যলোকের ভক্তদের ছেড়ে দেবী দুর্গা ফিরে যাবেন কৈলাসে। তাই বিদায়বেলায় ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর ভক্তদের প্রার্থনায় মুখর হয়ে উঠবে পূজামণ্ডপগুলো।

আরও পড়ুন: রমজান ও ঈদুল ফিতর কবে, সম্ভাব্য সময় জানাল আরব আমিরাত

বিজয়া দশমীর সকালে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হবে বিহিত পূজা। এরপর দর্পণ বিসর্জনসহ আনুষঙ্গিক ধর্মীয় আচার পালন করা হবে। স্থানীয় আয়োজন ও সুবিধাজনক সময় অনুযায়ী শোভাযাত্রার মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে।

দেবী দুর্গার বিদায়কে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে যেমন থাকবে আবেগ ও বিষাদ, তেমনি আগামী বছরের দুর্গোৎসবের অপেক্ষাও শুরু হবে। বছর ঘুরে আবারও দেবী দুর্গার আগমনের প্রত্যাশায় তাঁকে বিদায় জানাবেন ভক্তরা।

আরও পড়ুন: আজ মহানবমী, আগামীকাল প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হবে দুর্গোৎসব

বিজয়া দশমীর অন্যতম আকর্ষণ সিঁদুর খেলা। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, দেবী দুর্গার বিদায়ের আগে অনেক পূজামণ্ডপে সনাতনী নারীরা এই আয়োজনে অংশ নেন। দেবীর চরণে সিঁদুর অর্পণ করে সেই সিঁদুর নিজেদের কপাল ও সিঁথিতে লাগান তাঁরা। এরপর একে অপরকে সিঁদুর পরিয়ে শুভকামনা জানান।

ধর্মীয় ও সামাজিক প্রথা অনুযায়ী, স্বামীর মঙ্গল কামনায় নারীরা দেবীর সিঁথিতে দেওয়া সিঁদুর নিজেদের সিঁথিতে ধারণ করেন। পান ও মিষ্টি নিবেদনসহ বিভিন্ন রীতি পালনের পর শেষবারের মতো দেবীর আরাধনা করেন তাঁরা। তবে সিঁদুর খেলার প্রচলন ও আয়োজন স্থানভেদে ভিন্ন হতে পারে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাসে বিজয়া দশমী শুধু দেবী দুর্গার বিদায়ের দিন নয়, এটি অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভশক্তির বিজয়েরও প্রতীক। মানুষের মনের অসুরিক প্রবৃত্তি—কাম, ক্রোধ, হিংসা ও লালসা বিসর্জন দেওয়াই এই দিনের অন্যতম তাৎপর্য।

পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন দৃঢ় করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশাও বিজয়া দশমীর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। তাই প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় জানানোর পাশাপাশি নিজের ভেতরের নেতিবাচক প্রবৃত্তি ত্যাগের অঙ্গীকার করেন অনেকে।

প্রচলিত শাস্ত্রীয় বিশ্বাস ও পঞ্জিকাভিত্তিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন হয়েছে ঘোটকে বা ঘোড়ায় চড়ে এবং গমন করছেন নৌকায়। দেবীর আগমন ও গমনের বাহনকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও বিশ্বাস প্রচলিত রয়েছে।

সব মিলিয়ে বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে এ বছরের শারদীয় দুর্গোৎসব। আনন্দ, প্রার্থনা আর বিদায়ের আবেগে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়ে আবারও আগামী বছরের পূজার অপেক্ষায় থাকবেন ভক্তরা।