সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, জীবন ভেঙে যাচ্ছে, থমকে যাচ্ছে ভবিষ্যৎ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। ফেসবুক-ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে ভুয়া ভিডিও, এডিট করা ছবি ও সাজানো গল্প ছড়িয়ে বহু মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবন ধ্বংসের মুখে পড়ছে।
পটুয়াখালীর বাউফলে গত বছর এক কলেজছাত্রীকে নিয়ে ইউটিউবে সাজানো প্রেম কাহিনি প্রচার করা হয়। ভিডিওতে তাঁকে ভিলেন বানানো হয়। এক লাখের বেশি মানুষ ভিডিওটি দেখার পর পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে মেয়েটি। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে সে আত্মহত্যার চেষ্টাও করে। অথচ ভিডিওটি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা। পরিবার থানায় অভিযোগ জানালেও পুলিশ জানায়, ‘ফেসবুকের বিষয় নিয়ে মামলা হয় না।’
আরও পড়ুন: এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত অগ্রযাত্রা নিয়ে শঙ্কা, তদারকিতে তৃতীয় পক্ষের উদ্যোগ
এদিকে, গলাচিপার বিএনপি নেতা শাহজাহান হাওলাদারকেও একটি ফেক পেজে ‘জামায়াত-সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া হয়। এতে তাঁর সামাজিক মর্যাদা নষ্ট হয় এবং প্রশাসনিক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক কর্মী এই অপপ্রচার চালালেও কোনো প্রতিকার মিলেনি।
যদিও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-এর আওতায় মিথ্যা তথ্য প্রচার অপরাধ, বাস্তবে এর প্রয়োগ দুর্বল। তদন্তে গাফিলতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতার অভাব ও অপরাধী শনাক্তে সীমাবদ্ধতার কারণে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পান না।
আরও পড়ুন: আইফোন ১৮ প্রো বনাম আইফোন ১৫ প্রো তিন বছরে কতটা বদলাবে?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুযায়ী, গত দুই বছরে অপপ্রচারের কারণে অন্তত ৪৫ জন আত্মহত্যায় প্ররোচিত হয়েছেন, যার মধ্যে ৭৫ শতাংশ নারী।
এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কনটেন্ট অপসারণ ব্যবস্থা, প্রযুক্তি-সক্ষম তদন্ত ইউনিট এবং ভুক্তভোগীদের জন্য মানসিক ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।





