অশ্লীল কনটেন্ট বন্ধে এক্সকে আলটিমেটাম ভারতের

Any Akter
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:১৩ অপরাহ্ন, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৯:০০ পূর্বাহ্ন, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ভারতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কনটেন্ট ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার) এবং তাদের এআই চ্যাটবট ‘গ্রোক’। গ্রোকের মাধ্যমে অশ্লীল ও বেআইনি কনটেন্ট তৈরি ও ছড়ানোর অভিযোগে এক্সকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার।

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) মন্ত্রণালয় বলছে, গ্রোক ব্যবহার করে নগ্নতা, যৌন উত্তেজক, যৌন নির্যাতনমূলক এবং আইন পরিপন্থী কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে। এসব কনটেন্ট দ্রুত বন্ধে তাৎক্ষণিক কারিগরি ও নীতিগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (স্থানীয় সময়) আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়, গ্রোকের প্রযুক্তিগত কাঠামোয় পরিবর্তন এনে এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।

আরও পড়ুন: মোবাইল ব্যবহারকারীদের সতর্ক করল বিটিআরসি

এ নির্দেশ বাস্তবায়নে এক্সকে ৭২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছে সরকার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা সম্বলিত ‘অ্যাকশন-টেকেন রিপোর্ট’ জমা দিতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে—সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে এক্সের ‘সেফ হারবার’ সুরক্ষা বাতিল করা হতে পারে। এই সুরক্ষা থাকলে ব্যবহারকারীদের তৈরি কনটেন্টের দায় থেকে প্ল্যাটফর্ম আইনি ছাড় পায়। সুরক্ষা প্রত্যাহার হলে এক্সের বিরুদ্ধে আইনি ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যাবে।

আরও পড়ুন: এআই ডিভাইস দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত স্যামসাংয়ের

গ্রোক নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। সম্প্রতি একাধিক ব্যবহারকারী অভিযোগ করেছেন, এআইয়ের মাধ্যমে নারীদের ছবি বিকৃত করে তাতে কৃত্রিমভাবে বিকিনি বা যৌন আবেদন যুক্ত করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে ভারতের সংসদেও আলোচনা হয়। সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ উত্থাপন করলে সরকার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা শুরু করে।

এর আগে আরও গুরুতর অভিযোগ ওঠে গ্রোক ব্যবহার করে নাবালকদের যৌনভাবে উপস্থাপন করা ছবি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এক্স পরে স্বীকার করে, তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল এবং কিছু কনটেন্ট সরানো হয়েছে। তবে প্রযুক্তিবিষয়ক গণমাধ্যম টেকক্রাঞ্চসহ একাধিক পর্যবেক্ষক দাবি করেছে, এখনও অনেক এআই-পরিবর্তিত অশ্লীল ছবি এক্সে দেখা যাচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে ভারত সরকার আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। শুধু গ্রোক নয়, সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে সতর্ক করে দিয়ে আইটি মন্ত্রণালয় আগেই একটি সাধারণ পরামর্শ জারি করেছিল। সেখানে অশ্লীল ও যৌন কনটেন্ট সংক্রান্ত ভারতীয় আইন কঠোরভাবে মানার নির্দেশ দেওয়া হয়।

নতুন নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নিয়ম ভঙ্গ হলে প্ল্যাটফর্মের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রয়োজনে ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভারত সরকার মনে করছে, এআই কনটেন্ট বর্তমানে বড় ধরনের সামাজিক ও আইনি চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষ করে নারীদের ছবি বিকৃতি এবং শিশুদের নিরাপত্তা গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।

বিশ্বের অন্যতম বড় ডিজিটাল বাজার হওয়ায় ভারতের এ সিদ্ধান্তের প্রভাব বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে এক্স ও তাদের এআই প্রতিষ্ঠান এক্সএআই তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে জানা গেছে, ভারতের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কিছু বিধির বিরুদ্ধে আদালতে আইনি লড়াই চালাচ্ছে এক্স। একদিকে আইনি চাপ, অন্যদিকে সরকারি নির্দেশ—দুইয়ের মাঝেই পড়েছে প্ল্যাটফর্মটি।