কিশোরদের এআই চ্যাটে নজরদারির নতুন ফিচার আনছে মেটা, গোপনীয়তা নিয়ে বিতর্ক

Any Akter
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:০৮ অপরাহ্ন, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫৮ অপরাহ্ন, ২০ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কিশোর ব্যবহারকারীরা এআই সহকারীর সঙ্গে কী ধরনের বিষয় নিয়ে কথা বলছে, তা জানার নতুন সুযোগ পাচ্ছেন অভিভাবকেরা। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও মেসেঞ্জারে এই নজরদারি সুবিধা চালু করার ঘোষণা দিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা। তবে এই উদ্যোগ ঘিরে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্কও শুরু হয়েছে।

মেটা জানিয়েছে, তাদের ‘টিন অ্যাকাউন্ট’ তদারকি ব্যবস্থায় ‘ইনসাইটস’ নামে একটি নতুন ট্যাব যুক্ত হচ্ছে। এর মাধ্যমে অভিভাবকেরা সরাসরি বার্তা না দেখে সন্তানের এআই কথোপকথনের বিষয়ভিত্তিক সারাংশ জানতে পারবেন। আলোচনার বিষয়গুলোকে পড়াশোনা, বিনোদন, লেখা, স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতার মতো বড় ক্যাটাগরিতে ভাগ করে দেখানো হবে।

আরও পড়ুন: নতুন সিরিতে বিশেষ সুবিধা আনতে পারে অ্যাপল

অভিভাবকেরা চাইলে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে ক্লিক করে সীমিত কিছু অতিরিক্ত তথ্য দেখতে পারবেন। মেটা বলছে, ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা বজায় রেখেই এই তথ্য দেখানো হবে এবং ডেটা শুধুমাত্র সর্বশেষ সাত দিনের কথোপকথনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হবে।

উদাহরণ হিসেবে, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা বিভাগে শারীরিক ফিটনেস, অসুস্থতা কিংবা মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এর ফলে অভিভাবকেরা সন্তানের অনলাইন আচরণ সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা পাবেন বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।

আরও পড়ুন: ইনস্টাগ্রামে এলো ‘ইনস্ট্যান্টস’ ফিচার

এ ফিচারটি এমন সময়ে আনা হচ্ছে, যখন শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে মেটা। সম্প্রতি শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় হেরে যায় প্রতিষ্ঠানটি, যেখানে অভিযোগ ছিল তাদের পণ্যগুলো আসক্তিমূলকভাবে ডিজাইন করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। মেটা এসব রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছে।

এছাড়া আদালতে উন্মুক্ত কিছু অভ্যন্তরীণ নথিতে উঠে এসেছে, মেটার এআই-চালিত ভার্চ্যুয়াল ‘ক্যারেক্টার’ কখনো কখনো অনুপযুক্ত বা যৌন ধরনের কথোপকথনে জড়িয়ে পড়তে পারে—এ বিষয়টি প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব আগে থেকেই জানত বলে অভিযোগ রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে গত বছরের আগস্টে কিশোরদের জন্য এআই ক্যারেক্টার ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়। পরে অক্টোবরে অভিভাবকদের জন্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হয়, যেমন—এআই চ্যাট বন্ধ রাখা বা নির্দিষ্ট ক্যারেক্টার ব্লক করা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এসব ব্যবহারে আরও কড়াকড়ি আনা হয় এবং বর্তমানে কিশোরদের জন্য এআই ক্যারেক্টার সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

নতুন ফিচারের পাশাপাশি মেটা সাইবারবুলিং রিসার্চ সেন্টারের সঙ্গে কাজ করছে এবং অভিভাবকদের জন্য নির্দেশনাও তৈরি করেছে, যাতে তারা সন্তানদের সঙ্গে এআই ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। এছাড়া ‘এআই ওয়েলবিইং এক্সপার্ট কাউন্সিল’ নামে একটি বিশেষজ্ঞ দলও গঠন করা হয়েছে।

তবে সমালোচনাও রয়েছে। শিশু অধিকার সংস্থা ফেয়ারপ্লের নির্বাহী পরিচালক জশ গোলিনের মতে, এই ধরনের ফিচার মূল সমস্যার সমাধান নয়। এতে অভিভাবকদের ওপর নজরদারির বাড়তি দায়িত্ব চাপানো হচ্ছে, অথচ প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজটি যথেষ্টভাবে করা হচ্ছে না।