জানুয়ারিতে ৫টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে

ঘন কুয়াশা-ঠান্ডা বাতাসে কাঁপছে ঢাকা

Sadek Ali
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:২২ অপরাহ্ন, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৮:২২ অপরাহ্ন, ০৩ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গত কয়েকদিনের মতো শনিবারও রাজধানীতে জেঁকে বসেছে শীতের তীব্রতা। কিন্তু হঠাৎ করেই শীতের তীব্রতা এতটাই বেড়েছে যে ঘর থেকে বের হওয়ায় কঠিন হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশায় সূর্যের দেখা নেই। কুয়াশায় মোড়া রাস্তাঘাট, দৃষ্টি আটকে যায় কয়েক মিটারের মধ্যেই-গত কয়েকদিন ধরে ঢাকায় সকালের দৃশ্যটা এমনই। তবে আরও কয়েকদিন মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশায় চাদরে মোড়া থাকতে পারে রাজধানী ঢাকা। সেই সঙ্গে বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় শীতের অনুভূতিও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন সকাল থেকেই ঢাকায় দেখা গেছে কুয়াশা সঙ্গে মৃদু বাতাস। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষজন। গতকাল শনিবার ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একইসময়ে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৯ শতাংশ। ঢাকার সেগুন বাগিচায় এক রিকশা চালক বলেন, হঠাৎ করেই এমন ঠান্ডা পড়ছে যে সকাল সকাল বের হতে পারি না, হাত-পা জমে যায়, ক্ষ্যাপ মারতে কষ্ট হয়। ঢাকার সকালগুলো এখন অনেক ধীর। অফিসমুখী মানুষের মুখে জমা ঠান্ডা। রিকশা, বাস, প্রাইভেটকার সবই যেন একটু ধীরে চলে। শীতের সঙ্গে কুয়াশা যোগ হওয়ায় রাস্তার দৃশ্যমানতা সকালে কমে গেছে। অনেকে সকাল দেরিতে বের হচ্ছেন। ফুটপাতের চায়ের দোকানে ধোঁয়া ওঠা কাপের পাশে জটলা বাড়ছে। শীত জমলে ঢাকায় চা দোকানই যেন ছোট সভাঘর হয়ে যায়, আর এখন ভোটের মাঠে এ জটলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

এ বিষয়ে আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ বলেন, ৫ জানুয়ারি থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাত-দিনের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। কুয়াশার আধিক্য, সূর্যের আলো কম পাওয়া এবং হিমালয় পাদদেশের কনকনে শীতল বাতাসের প্রভাবে শীতের অনুভূতি তীব্র হবে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে সারা দেশে বাড়ছে শীত। সিরাজগঞ্জে সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে বাঘাবাড়ি আবহাওয়া অফিস। ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। যশোরেও আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আদ্রতা ৯৭ ভাগ। উত্তরের জেলা দিনাজপুরে আজ সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আদ্রতা ছিলো ৯৪ শতাংশ।

আরও পড়ুন: শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে দুঃসংবাদ দিলো আবহাওয়া অধিদপ্তর

চলতি জানুয়ারি মাসে চার থেকে পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. মমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চলতি মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। তবে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়/নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ সময়ে ২-৩টি মৃদু (৮-১০) ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে মাঝারি (৬-৮) ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং ১-২টি মাঝারি (৬-৮) ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে তীব্র (৪-৬) ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত নদ-নদী অববাহিকাসহ দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং অন্যত্র হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। তবে কখনো কখনো কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে শীতের অনুভূতি বৃদ্ধি পেতে পারে। পূর্বাভাসে নদ-নদীর অবস্থায় বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বিরাজমান থাকতে পারে। কৃষি আবহাওয়ায় বলা হয়েছে, জানুয়ারি মাসে দেশের দৈনিক গড় বাষ্পীভবন ১.৫০-৩.৫০ মিলিমিটার এবং গড় সূর্য কিরণকাল ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিট থেকে ৫ ঘণ্টা ৫০ মিনিট থাকতে পারে।

আরও পড়ুন: কুয়াশায় ঢাকবে বাংলাদেশ, ৪৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত

ঢাকায় দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত, আকাশ আংশিক মেঘলা: সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যমান মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা কমলেও ঢাকায় দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। একই সঙ্গে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার দুপুর ১টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টায় জন্য আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্ভূাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। এ সময় উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে হালকা বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রাও প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। প্বূাভাসের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১২টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ ছিল ৭৮ শতাংশ। গতকাল ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজকের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, এদিন সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২৪ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪২ মিনিটে। গত ছয় ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। অন্যদিকে সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত সারাদেশের সম্ভাব্য পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে। কুয়াশার কারণে বিমান চলালে, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এছাড়া দেশের রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া জেলাসমূহের উপর দিয়ে মৃদু শৈত্য প্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশে দিন-রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

নোয়াখালীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড: নোয়াখালীতে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। চলতি শীত মৌসুমে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার সকাল ৯টায় এ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পৌষ মাসের শুরু থেকেই নোয়াখালীতে তাপমাত্রা ১৩ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছিল। তবে পৌষের মাঝামাঝি এসে হঠাৎ করেই তীব্র শীতের প্রকোপ বেড়েছে। কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না বললেই চলে। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও সড়কে ছোট-বড় যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, রিকশাচালকসহ নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। কাজের খোঁজে ঘর থেকে বের হলেও কনকনে ঠান্ডায় স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছেন না তারা। বিশেষ করে নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এসব এলাকায় এখনো সরকারি ও বেসরকারি কোনো শীতবস্ত্র সহায়তা পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। পর্যাপ্ত কম্বল ও শীতবস্ত্রের অভাবে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে রয়েছেন। তবে চরাঞ্চলের বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে কুয়াশার সঙ্গে ঠান্ডা বাতাস বইতে থাকায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। আগের দিনের তুলনায় শনিবারের কনকনে ঠান্ডায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। শীত নিবারণের জন্য অনেককে খড়কুটো ও জ্বালানি পুড়িয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। তবে জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, চলতি শীত মৌসুমে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামী কয়েকদিন নোয়াখালীসহ উপকূলীয় অঞ্চলে শীতের প্রকোপ অব্যাহত থাকতে পারে এবং ভোর পর্যন্ত ঘন কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নওগাঁয় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা নেমেছে ৯ ডিগ্রিতে: উত্তরের জেলা নওগাঁর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। এক দিনের ব্যবধানে ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা কমে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়েছে জেলাটি। নওগাঁর বদলগাছী আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য মতে শনিবার সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত এই জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোর থেকেই চারপাশ কুয়াশায় ঢাকা। সঙ্গে হিমেল হাওয়ায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। গত দুই দিন সূর্যের দেখা মিললেও আবার বিকেল হলেই তাপমাত্রা নিম্নমুখী হতে শুরু করছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতও বাড়তে থাকে। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছিন্নমূল মানুষ ও খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে। কথা হয় ভ্যানচালক আলম মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, গত দুই দিন শীত একটু কম ছিল। আজকে যে শীত শুরু হয়েছে, তাতে কোনো যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। সকাল ১০টা বাজলেও কুয়াশার কারণে পাঁচ হাত দূরে কিছু দেখা যাচ্ছে না। হাপানিয়া এলাকার বাসিন্দা স্বপন আহমেদ বলেন, সন্ধ্যার পর থেকেই শীতের প্রকোপ বেড়েছে। সেই সঙ্গে কুয়াশা ও হিমেল হাওয়া শীতের তীব্রতা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকেই মানুষ গরম কাপড় পরে চলাফেরা করছে। ভোর থেকে এখনো পর্যন্ত চারপাশ কুয়াশায় আচ্ছন্ন। নওগাঁর বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, সকাল ৯টায় জেলায় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে গতকাল তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সে হিসাবে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এ জেলার তাপমাত্রা কমেছে ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হিমেল হাওয়ায় শীত আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।