সরকারের ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার পথ বন্ধ করতেই এই গণভোট: অধ্যাপক আলী রীয়াজ

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৮:২৯ অপরাহ্ন, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:১০ অপরাহ্ন, ০৯ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ভবিষ্যতে যারা এই দেশ পরিচালনা করবেন, তাঁরা যেন আর কখনই ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এবারের গণভোট।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর সম্মেলন কক্ষে ‘আসন্ন গণভোট এবং এনজিওসমূহের করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান আলোচকের বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: রাজধানীতে গ্যাসের তীব্র সংকট, যা জানালো তিতাস

এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মোঃ দাউদ মিয়া এর সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐক্যমত্য) মনির হায়দার এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। দেশে নিবন্ধিত স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক প্রায় সাড়ে চারশ এনজিও-এর প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আসন্ন গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোটকে জয়ী করে সরকারের ফ্যাসিবাদী হওয়ার পথ বন্ধ করতে হবে। আমাদের বিদ্যমান ত্রুটিপূর্ণ সাংবিধানিক এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কারণে সরকার পরিচালকেরা ফ্যাসিবাদী হওয়ার সুযোগ পান।”

আরও পড়ুন: সীমানা জটিলতায় পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন স্থগিত

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আসন্ন গণভোট অন্য সাধারণ নির্বাচনের মতোই হবে। ভোটাররা কেন্দ্রগুলোতে দুইটি ব্যালট পাবেন; জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য সাদা ব্যালট এবং গণভোটের জন্য রঙিন ব্যালট।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও বিগত সরকারের সময়ে যারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জীবন দিয়েছেন, তারা আমাদের এই দায়িত্ব দিয়েছেন। গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।”

কর্মশালার বিশেষ আলোচক মনির হায়দার বলেন, “গণভোটের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব, যা আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার পথ সুগম করবে। অন্যথায় দেশ আবার ৫ আগস্টের আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, জনগণ যদি হ্যাঁ ভোট দিয়ে সংস্কারের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আসবে, বিচার বিভাগের সংস্কার ও বিকেন্দ্রীকরণের পাশাপাশি দেশ পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।

সুজন এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার কর্মশালায় ‘গণভোট কী ও কেন?’ শীর্ষক উপস্থাপনা দেন এবং জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত সংস্কার ও গণভোট বিষয়ক বিষয়গুলো আলোচনা করেন।

এ সময় উপস্থিত এনজিওসমূহের ৫০–৬০ লাখ প্রত্যক্ষ উপকারভোগী, তাঁদের পরিবার ও পরোক্ষ উপকারভোগীদের মধ্যে গণভোট বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে এনজিওগুলো ও এনজিও বিষয়ক ব্যুরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলে জানান মহাপরিচালক মোঃ দাউদ মিয়া।