বজ্রপাতের তাণ্ডবে এক দিনে নিভল ১৪ প্রাণ
এক সপ্তাহের বেশি সময়ের তীব্র তাপপ্রবাহের পর স্বস্তির বৃষ্টি এলেও সেই বৃষ্টিই রোববার রূপ নিল মৃত্যুবার্তায়। দেশের সাত জেলায় বজ্রপাতের পৃথক ঘটনায় অন্তত ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন, মারা গেছে গবাদিপশুও। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের তীব্রতায় গ্রামাঞ্চলজুড়ে নেমে আসে আতঙ্ক ও শোকের ছায়া।
প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য:
আরও পড়ুন: চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, উত্তাল হতে পারে সাগর
রোববার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হঠাৎ করেই কালো মেঘে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে আকাশ। শুরু হয় দমকা হাওয়া, সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টি। এই স্বস্তির বৃষ্টি মুহূর্তেই পরিণত হয় মর্মান্তিক ঘটনায়। গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, পঞ্চগড়, নাটোর ও বগুড়ায় বজ্রপাত কেড়ে নেয় অন্তত ১৪ জনের প্রাণ।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে গাইবান্ধায়। জেলার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় পৃথক ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজন মারা যান। বিকেলে হঠাৎ ঝড়ের সময় বাড়ির পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা তিন কিশোর সরাসরি বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায়। একই সময়ে অন্য দুইজনও পৃথক স্থানে বজ্রাঘাতে নিহত হন। আহত হন আরও একজন, মারা যায় একটি গরুও।
আরও পড়ুন: বৃষ্টি ও তাপমাত্রা নিয়ে যে বার্তা দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় মাঠে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান এক নারী ও এক কৃষক। দুপুরের বৃষ্টির মধ্যে আকস্মিক বজ্রাঘাতে তাঁদের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় মৌসুমের প্রথম ঝড়েই প্রাণ হারান দুই কৃষক। মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতের শিকার হয়ে তাঁরা মারা যান। স্থানীয়দের ভাষ্য, হঠাৎ মেঘ জমে বজ্রপাত শুরু হলে কেউ আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ পাননি।
জামালপুরে বজ্রপাতের ঘটনায় দুইজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। বাড়ির উঠান ও ফসলের মাঠ—দুই স্থানেই ঘটে মৃত্যুর ঘটনা। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বজ্রপাতে পাঁচটি গরুও মারা গেছে।
পঞ্চগড়ে চা-বাগানে কাজ শেষে ফেরার পথে বজ্রাঘাতে প্রাণ হারান এক তরুণ শ্রমিক। বিয়ের মাত্র আট দিনের মাথায় তাঁর মৃত্যু এলাকায় শোকের আবহ তৈরি করেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শ্রমিক।
নাটোরের সিংড়ায় ধান বহনের সময় আশ্রয় নিতে গিয়ে বজ্রাঘাতে নিহত হন এক শ্রমিক। অন্যদিকে বগুড়ার গাবতলীতে মাঠে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারান এক কৃষক।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, তাপপ্রবাহের পর সৃষ্ট এই বৃষ্টি আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকতে পারে। তবে এর সঙ্গে বজ্রপাতের ঝুঁকিও রয়েছে।
স্বস্তির বৃষ্টি যে কখন মৃত্যুঝড়ে পরিণত হয়, তার নির্মম উদাহরণ হয়ে রইল রোববারের দিনটি। এক দিনের ব্যবধানে এত প্রাণহানি আবারও মনে করিয়ে দিল—বজ্রপাত এখন আর কেবল প্রাকৃতিক ঘটনা নয়, এটি এক নীরব ঘাতক। বিশেষজ্ঞরা সচেতনতা বাড়ানো ও আগাম সতর্কতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন।





