এন্ডোমেট্রিওসিসের ব্যথা কমাতে উপকারী ৬ প্রদাহ-বিরোধী খাবার

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:০৮ অপরাহ্ন, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৬:৩৪ অপরাহ্ন, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

এন্ডোমেট্রিওসিস একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত অবস্থা, যেখানে জরায়ুর আস্তরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে তলপেটে ব্যথা, পিরিয়ডের সময় তীব্র অস্বস্তি, পেট ফাঁপা এবং ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। যদিও এ রোগের চিকিৎসা অপরিহার্য, বিশেষজ্ঞরা বলছেন—সঠিক খাদ্যাভ্যাস উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষ করে প্রদাহ-বিরোধী খাবার গ্রহণ করলে শরীরের প্রদাহ কমে এবং এন্ডোমেট্রিওসিসজনিত ব্যথা কিছুটা উপশম হতে পারে। নিচে এমন ৬টি উপকারী খাবার তুলে ধরা হলো—

আরও পড়ুন: শিশুর চোখ উঠলে যা করবেন

তৈলাক্ত মাছ:

স্যামন, সার্ডিন বা ম্যাকারেলের মতো তৈলাক্ত মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে সমৃদ্ধ, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ব্যথা-সংশ্লিষ্ট প্রদাহজনিত উপাদান কমাতে কার্যকর। সপ্তাহে ২–৩ বার এসব মাছ খাওয়া উপকারী।

আরও পড়ুন: চোখের দৃষ্টি ভালো রাখতে প্রতিদিনের খাবারে রাখুন এই ৫ পুষ্টিকর উপাদান

পাতাযুক্ত সবুজ শাক-সবজি:

পালং শাক, কেলে বা অন্যান্য সবুজ শাক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ম্যাগনেসিয়ামে ভরপুর। ম্যাগনেসিয়াম পেশী শিথিল করে এবং খিঁচুনি কমাতে সাহায্য করে।

বেরি জাতীয় ফল:

ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি ও রাস্পবেরিতে অ্যান্থোসায়ানিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এগুলোতে থাকা ফাইবার হরমোন ভারসাম্য বজায় রাখতেও সহায়ক।

বাদাম ও বীজ:

আখরোট, ফ্ল্যাক্সসিড ও চিয়া বীজে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ফাইবার। ফ্ল্যাক্সসিডে থাকা লিগনান হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।

অলিভ অয়েল:

এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলে থাকা ওলিওক্যান্থাল নামক উপাদান প্রদাহ কমাতে সহায়ক, যা কিছু ক্ষেত্রে ব্যথানাশক ওষুধের মতো কাজ করে।

হলুদ:

হলুদের কারকিউমিন শক্তিশালী প্রদাহ-বিরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে পরিচিত। নিয়মিত খাবারে হলুদ ব্যবহার করলে প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র খাদ্যাভ্যাস দিয়ে এন্ডোমেট্রিওসিসের চিকিৎসা সম্ভব নয়। তবে সুষম ও প্রদাহ-বিরোধী খাদ্যাভ্যাস ব্যথা কমাতে এবং সার্বিক উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় এসব খাবার অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।