প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা

কুমিল্লায় তনু হত্যার তদন্ত কর্মকর্তা একাধিকবার বদলালেও নয় বছরেও প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি

Sanchoy Biswas
কুমিল্লা সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ৬:৫১ অপরাহ্ন, ২০ মার্চ ২০২৫ | আপডেট: ৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, ০৮ জুন ২০২৬
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। ছবিঃ সংগৃহীত
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। ছবিঃ সংগৃহীত

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। তার হত্যার নয় বছরে ও কোন আসামি শনাক্ত হয়নি। নেই মামলার কোন অগ্রগতি। দেওয়া হয়নি কোনো ধরনের চার্জশিট ও। বাদী পক্ষের সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার কোনো যোগাযোগ ও নেই। এ অবস্থার মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) চাঞ্চল্যকর ওই হত্যাকাণ্ডের নয় বছর পূর্ণ হয়েছে। 

এদিকে তনুর নবম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে  শুক্রবার ২১ মার্চ বাদ জুমা গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন: মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, ৯ বছর যারা মামলা তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। ওরা মামলাটিকে নষ্ট করে দিয়েছে। ওদের বিচার করতে হবে। 

তিনি বলেন, মার্চ মাসের এই সময় মিডিয়া ছাড়া কেউ আমাদের খবর নেয় না। ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। 

আরও পড়ুন: উলিপুরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ পালিত

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাত কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর লাশ কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসের পাওয়ার হাউজের অদুরের কালভার্টের পশ্চিম ঝোপ থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনা ২০১৬ সালের ২১ মার্চ বিকেলে তনুর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহকারী ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় অজ্ঞাত নামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর প্রথম ২০১৬ সালের ২১ মার্চ মামলা তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয় কোতোয়ালি মডেল থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলামকে। 

পরে দ্বিতীয়বার ২০১৬ সালের ২৫ মার্চ মামলা তদন্ত দেয়া হয় কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম মনজুর আলমকে। 

পরবর্তীতে তৃতীয়বার ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সিআইডি কুমিল্লা পুলিশ পরিদর্শক গাজী মো. ইব্রাহিম তদন্ত করেন। চতুর্থবার ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা বদল করে সিআইডি নোয়াখালী ও ফেনী অঞ্চলের তৎকালীন সরকারি পুলিশ সুপার (বর্তমান সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার) জালাল উদ্দিন আহমেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পঞ্চমবার ২০২১ সালের ২১ আগস্ট হত্যা মামলাটি সিআইডি থেকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেসটেগেশন (পিআইবি) ঢাকার সদরদপ্তর স্থানান্তর করা হয়। পিআইবি ২০২০ সালের  পর বাদী পক্ষের সঙ্গে আর যোগাযোগ করেনি বলে দাবি পরিবারটির। 

এদিকে গত বছরের (২০২৪) সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলা করেন তদন্ত কর্মকর্তা ষষ্ঠ বারের মতো বদল হয়। এবার তদন্ত কর্মকর্তা দেওয়া হয় পি বি আই এর ঢাকার আরেক পরিদর্শক তরিকুল ইসলামকে। 

তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, এই মামলা তদন্ত হুট করে করা যায় না। কিছু প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ঘটনাস্থলে যেতে হয়। আমরা সে নিরিখ কাজ করছি।