কাঠের কারুকাজে ঐতিহ্যের ছোঁয়া

কদর বাড়ছে করিমগঞ্জের মহানন্দের তৈরি কাঠের হস্তশিল্প

Sadek Ali
‎এম.এ. কিবরিয়া, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১:০৫ অপরাহ্ন, ২৩ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ৩:০৯ অপরাহ্ন, ২৩ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কৃত্রিম উপকরণের আধুনিক যুগেও দাঁড়িয়েও নিজস্ব ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য নিয়ে মাথা উঁচু করে টিকে রয়েছে কাঠের হস্তশিল্প। হাতুড়ি-বাটালের ঠুকঠাকে একখণ্ড নিষ্প্রাণ কাঠ, আর তাতেই নিপুণ হাতের স্পর্শে ফুটে উঠছে অসাধারণ সব শিল্পকর্ম। কখনো দৃষ্টিনন্দন তৈজসপত্র, কখনো পশুপাখির প্রতিকৃতি, আবার কখনো বা চোখজুড়ানো নান্দনিক গৃহসজ্জার উপকরণ। বলছিলাম কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কারিগর মহানন্দ চন্দ্র সূত্রধরের কথা। তাঁর তৈরি কাঠের এসব সূক্ষ্ম হস্তশিল্প এখন নজর কাড়ছে সবার, দিন দিন বাড়ছে এর বাণিজ্যিক কদরও।

‎বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, করিমগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় কাঠের কারিগররা বংশপরম্পরায় এই কাজ করে আসছেন। মহানন্দ মূলত নিজের আগ্রহ ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি থেকে এই কাঠের হস্তশিল্পের যাত্রা শুরু করেন। গত কয়েক বছরে নিজের মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি করিমগঞ্জ সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় রোডে একটি দেকানঘর ভাড়া নিয়ে তৈরি করেছেন হরেক রকমের কাঠের শোপিস, ফুলদানি, কাঠের বাটি, চুড়ির আলনা, নানা ধরনের অলঙ্কার ও শো-পিস, খাটের পা'র কারুকাজ, বাহারি নকশার দরজা, আলমারি, ড্রেসিং টেবিলের পা'র নকশা থেকে শুরু করে পুতুল, শোপিস ও গৃহস্থালির ছোটখাটো জিনিসপত্র- সবকিছুতেই তাদের মেধা ও শ্রমে ফুট উঠে অপরূপ শিল্পকর্ম। শাল, সেগুন, মেহগনি এবং গামারি কাঠ দিয়ে তৈরি এসব হস্তশিল্প স্থায়িত্ব ও নান্দনিকতার জন্য বেশ পরিচিত। প্লাস্টিক ও মেলামাইনের এই ভিড়ে টেকসই ও সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক কাঠের তৈরি এসব জিনিসের মান সাধারণ মানুষের কাছে অনেকটাই আলাদা। অনেক হস্তশিল্পপ্রেমী বাড়িতে বা অফিসে শোভাবর্ধনের জন্য মহানন্দের কারুকাজ করা জিনিস সংগ্রহ করছেন।

আরও পড়ুন: ধামরাইয়ে পুলিশের অভিযানেচালিয়ে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১

‎‎নিজের কাজ সম্পর্কে মহানন্দ চন্দ্র সূত্রধর 'বাংলাবাজার পত্রিকা'র এ প্রতিবেদককে বলেন, "কাঠের ভেতরে একটা আলাদা প্রাণ থাকে। সঠিক ফিনিশিং আর যত্নে রূপ দিলে তা বহু বছর স্থায়ী হয়। প্রথম দিকে শখের বশে শুরু করলেও এখন এটিই আমার মূল জীবিকা। প্রতিদিন নতুন নতুন নকশা নিয়ে কাজ করতে আমার বেশ ভালো লাগে। কাস্টমাররা যখন আমার কাজের প্রশংসা করেন, তখন সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।"

‎রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক অলয় কুমার রায় পাপ্পু বলেন, "মহানন্দের কাজের মান খুবই চমৎকার এবং ফিনিশিং বেশ চমৎকার। তবে যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও কারিগরি সুবিধা পেলে এই কাঠের শিল্প আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে পড়া সম্ভব। সঠিক প্রচার ও সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে মহানন্দের মতো কারিগরি উদ্যোক্তারা দেশের হস্তশিল্পে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারবে বলে আমি মনে করি৷"

আরও পড়ুন: গাজী নজরুলের সংসদ সদস্যপদ বাতিলের দাবিতে উত্তাল শ্যামনগর