টাঙ্গাইলে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশের স্ত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু, লাশ উদ্ধার
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী পশ্চিমপাড়া (জামাইপাড়া) গ্রামে খোদেজা বেগম (৫৫) নামে অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের মুখমণ্ডল রক্তাক্ত ও কপালে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনা ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৭ মে) দুপুরের দিকে রেললাইন সংলগ্ন নির্জন বাড়ির শয়নকক্ষে খোদেজা বেগমের লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন তার পালিত ছেলে আসাদুজ্জামান। পরে কালিহাতী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।
আরও পড়ুন: ক্ষমতা বদলালেও বদলায়নি সিটিজেন চার্টার: নেই কার্যকর মোবাইল-ইমেইল
নিহত খোদেজা বেগম ওই গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আতোয়ার রহমানের স্ত্রী। প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর আগে তার স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই খোদেজা বেগম নির্জন এলাকায় একা বসবাস করছিলেন। তার কোনো সন্তান ছিল না, তবে একজন পালিত ছেলে রয়েছে।
পালিত ছেলে আসাদুজ্জামান জানান, “গত ১৩ মে আমি মায়ের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। এরপর থেকে দুইদিন ধরে তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে পারছিলাম না। এতে সন্দেহ হওয়ায় আজ দুপুরে বাড়িতে এসে দেখি ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ এবং সিদ কাটা। ভেতরে ঢুকে দেখি মা বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। আমি নিশ্চিত আমার মাকে হত্যা করা হয়েছে।”
আরও পড়ুন: আশুলিয়া এসিল্যান্ড অফিসে নিরাপত্তা প্রহরীর নিয়ন্ত্রণে দাপ্তরিক কাজ
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়দের অনেকেই জানান, খোদেজা বেগম শান্ত স্বভাবের ছিলেন এবং কারও সঙ্গে তেমন বিরোধ ছিল না। তবে তার নির্জন অবস্থান এবং একাকী জীবনযাপনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিয়ে আগে থেকেই অনেকে শঙ্কিত ছিলেন।
কালিহাতী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আব্দুল্লাহ আল ইমরান জানান, “নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। ইতোমধ্যে বাড়ির আশপাশ এবং সম্ভাব্য তথ্যসূত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।”
পুলিশ প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কা করছে। তবে ঘটনার পেছনে আর্থিক, পারিবারিক বা অন্যান্য কোনো মোটিভ আছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনে প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত সম্প্রসারিত করা হবে।
এ ঘটনার পর এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, এলাকায় রাতের বেলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হোক এবং নির্জন ঘরবাড়িগুলোর দিকে নজরদারি বাড়ানো হোক।
ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।





