মায়ের পর বাবার জানাজায় প্যারোলে মুক্তি নিয়ে দুই ভাই: নিজেদের নির্দোষ দাবি

Sanchoy Biswas
ওমর ফারুক সোহাগ, রামু
প্রকাশিত: ৮:১০ অপরাহ্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১০:৩০ অপরাহ্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

মায়ের কবরের মাটি এখনো শুকায়নি, এরই মধ্যে বিদায় নিলেন বাবাও। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে মা-বাবাকে হারিয়ে দিশেহারা দুই সহোদর ফরিদুল আলম ও মোঃ ইসলাম।

কক্সবাজারের রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নের পানেরছড়া গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে। কারাগারে বন্দি থাকায় দুই ভাইকেই প্যারোলে মুক্তি নিয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় অংশ নিতে হয়েছে বাবার জানাজায়। মাত্র ৩ দিন আগে কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে মায়ের জানাজায় এসেছিলেন তারা। মায়ের জানাজায় বাবাকে নিয়ে শংকার কথা বলে দোয়াও চেয়েছিলেন দুই ভাই।

আরও পড়ুন: কাশিয়ানীতে শংকর তহসিলদারের অনুমতিতে চলছে অবৈধ মাটি উত্তোলন ও বিক্রি

গত ২১শে ফেব্রুয়ারি কারাগারে বন্দি ফরিদুল আলম ও মোহাম্মদ ইসলাম-এর মা মোস্তফা বেগম ইন্তেকাল করেন। সেদিন কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাতে হাতকড়া এবং রশিতে বাঁধা অবস্থায় মায়ের খাটিয়া কাঁধে নিয়েছিলেন ফরিদুল ও ইসলাম। ঠিক তিন দিনের মাথায়, ২৫শে ফেব্রুয়ারি দুপুরে বাবা নুর আহমদও পাড়ি জমালেন না ফেরার দেশে।

বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাবার জানাজায় অংশ নিতে দ্বিতীয়বারের মতো প্যারোলে মুক্তি পান দুই ভাই। এবার কোমরে দড়ি না থাকলেও হাতে ছিল সেই চিরচেনা হাতকড়া। জানাজার আগে সমবেতদের উদ্দেশ্যে ফরিদুল ও ইসলাম কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বলেন:

আরও পড়ুন: গাসিক প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার প্রথম কার্যদিবসেই উন্নয়ন ও নির্বিঘ্নে নাগরিক সেবা দেওয়ার আশ্বাস

“আমরা প্রতিহিংসার শিকার। মৃত বাবা-মায়ের নামে শপথ করে বলছি, আমরা নির্দোষ।”

স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, ফরিদুল ও ইসলাম গত আড়াই মাস ধরে কারাগারে আছেন। প্রথমে খুনিয়াপালং ইউনিয়নের একটি মামলায় তারা আটক হন। সেই মামলায় জামিন পেলেও নতুন মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

স্থানীয়রা বলছেন, তারা এলাকায় শান্তিপ্রিয় মানুষ হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বারবার হয়রানি করা হচ্ছে। সন্তান হয়েও বাবা-মায়ের শেষ সেবাটুকু করতে পারলো না।