ফ্রিতেও নিচ্ছে না ছাগলের চামড়া

দিনাজপুরে সরকার নির্ধারিত দরে বিক্রি হচ্ছে না চামড়া

Sadek Ali
অমর গুপ্ত, দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:২৯ পূর্বাহ্ন, ১০ জুন ২০২৫ | আপডেট: ৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে কোরবানরি পশুর চামড়ার আশানুরূপ দাম মিলছে না। চামড়ার মান ও  আকার ভেদে প্রতিটি গরুর চামড়া ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায়। আর ছাগলের চামড়ার দাম ১০ টাকা হলেও ভেড়ার চামড়ার কোনো দামই মিলছে না।

মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্যানারি মালিকরা বকেয়া পরিশোধ না করায় পূঁজি সংকট ও চামড়া প্রক্রিয়াকরণের ব্যবহৃত লবনের দাম বাড়ায় বেশি দামে চামড়া কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: টেকনাফ সীমান্তে আবারও গোলাগুলির শব্দ, বাড়িতে পড়লো গুলি

অনেকে জানিয়েছেন, গরুর সঙ্গে ছাগল ও ভেড়ার চামড়ার কাঁচা চামড়া বিনামূল্যে দেওয়া হলেও ব্যবসায়ীরা নিতে চাচ্ছেন না। ফলে অনেকে ছাগল ও ভেড়ার চামড়া ফেলে দিয়েছেন।

ঈদের দিন শনিবার (৭ জুন) বিকেল থেকে আজ মঙ্গলবার (১০ জুন) সকাল ১১ টার পর্যন্ত সরেজমিনে পৌরশহরের নিমতলা মোড় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে বিভিন্ন এলাকা থেকে  কোরবানীর চামড়া বিক্রি করতে বিক্রেতারা ভিড় করছেন। চাহিদানুযায়ী দাম না পেয়ে নিরাশ হয়ে বাড়ী ফিরছেন বিক্রেতারা। সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে।

আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে মাদক বিরোধী অভিযানে ৩০ কেজি ভারতীয় গাঁজা জব্দ

জানা যায়, সরকারিভাবে গরুর চামড়া ঢাকার জন্য প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট ৫৫ থেকে ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ছাগলের চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ২০ থেকে ২২ টাকা, খাসির চামড়া ২২ থেকে ২৭ টাকা এবং ভেড়া ১৮ থেকে ২০ টাকা। এছাড়াও ঢাকায় গরুর একটি কাঁচা চামড়া সর্বনিম্ন এক হাজার ৩৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে একই চামড়া এক হাজার ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তুচামড়া বিক্রেতারা সরকার নির্ধারিত মূল্য পাচ্ছেন না।

চামড়া বিক্রি করতে আসা মহিদুল ইসলাম মাজু বলেন, কোরবানীর একটি গরুর এবং একটি ছাগলের চামড়া বিক্রি করতে এসেছিলেন। সরকারের বেধে দেওয়া মূল্য না পেয়ে বাধ্য হয়ে ৩৫০ টাকায় গরুর চামড়া বিক্রি করলেও ছাগলের চামড়ার মাদ ১০ টাকা বলায় সেটি বিক্রি না করে ছোট যমুনা নদীতে ফেলে দিয়েছেন।

অপর এক চামড়া বিক্রেতা মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চামড়ার দাম নেই। মাদ্রাসার হুজুরকে ফোন দিয়েছি, উনিও আসেননি। তাই চামড়ায় লবণ দিয়ে রেখেছি। ইউটিউব থেকে ধারণা নিয়ে চেষ্টা করব নিজেই বাড়িতে কিছু বানানো যায় কি না।’

স্থানীয় মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ হাশমি ও কোরবান আলী বলেন, প্রতি বছর ঋণদেনা করে কুরবানীর পশুর চামড়া তারা কিনে মহাজনদের দিয়ে থাকেন। কিন্তু মহাজনরা বাকিতে চামড়া নিয়ে সময় মতো টাকা না দেওয়ায় লাভের বদলে কোনসান গুণতে হচ্ছে কয়েক বছর থেকে। এ কারণে অনেক মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী ঋণদেনায় জর্জিত হয়ে পূঁজি হারিয়ে ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন। বিগত বছরগুলোর মতোই এবছরও চামড়ার বাজারে ধস নেমেছে।

চামড়া ব্যবসায়ী আলী আকবর হাশমি বলেন, ঢাকার ট্যানারির মালিকরা সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া না কেনার কারণে তারাও সরকারি দামে চামড়া কিনতে পারছেন না। বর্তমানে আকার ও প্রকার ভেদে গরুর চামড়া ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং ছাগলের (খাসির) চামড়া ১০ টাকা করে কিনেছেন। তবে বকরি ও ভেড়ার চামড়া কেনেননি। ট্যানারির মালিকরা চাগলের চামড়া কিনতে চায় না বলে ছাগলের চামড়ার দাম নেই। স্থানীয়ভাবে চামড়া প্রক্রিয়াকরণ করার জন্য লবণের প্রয়োজন হয়। সেই লবণের দামও এ বছর বেড়ে গেছে। কিছুদিন আগে লবণ ৪৭০ টাকা মণ পাওয়া গেলেও এখন সেই লবণ কিনতে হচ্ছে ৬৫০ টাকা মণদরে। তবে গত বছর সরকারি মূল্যে চামড়া কিনে আর্থিকভাবে লোকসানে পড়তে হয়েছিল। এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক গরুর চামড়া কেনা হয়েছে। আরও কিছু কেনা যাবে। ট্যানারিগুলোর ধারণক্ষমতার অনেক বেশি পশু কোরবানী হওয়ায় চামড়ার ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না।

 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসাহাক আলী বলেন, কোরবানীর পশুর চামড়া কেনার লোক না পাওয়া গেলে তো সমস্যা। তবে বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই করে দেখা হবে কি কারণে চামড়ার দাম বিক্রেতারা পাচ্ছেন না।