তিস্তা পাড়ের জেলেদের হাহাকার: খালি জাল নিয়ে ফিরছেন তারা

লালমনিরহাটের তিস্তা নদীর পাড়ে ভোরের কুয়াশা কেটে যখন সূর্যের আলো পড়ে, তখনই শুরু হয় জেলেদের নদীতে নামার প্রস্তুতি। মাথায় বাঁশের তৈরি ঝুড়ি, হাতে জাল, আর ছোট্ট নৌকা নিয়ে নেমে পড়েন তারা। কিন্তু দীর্ঘ সময় নদীতে কাটিয়েও খালি হাতে ফিরছেন অধিকাংশ জেলে। একসময়ের ভরপুর তিস্তা এখন যেন মাছশূন্য।
হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান গ্রামের জেলে আব্দুল মালেক (৪৫)। তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে তার সংসার। প্রতিদিন সকালে নদীতে যান তিনি। আগে দিনে গড়ে ৮-১০ কেজি মাছ বিক্রি করে সংসারের খরচ চালাতে পারতেন। এখন ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল ফেলেও হাতে ওঠে মাত্র এক-দুই কেজি মাছ।
আরও পড়ুন: সাতক্ষীরা তালায় ঘেরের আইলে সবজি চাষ, কৃষিতে সম্ভাবনার হাতছানি
কথা বলতে গিয়ে চোখ ভিজে যায় মালেকের, সারাদিন নদীতে থাকি, অথচ হাতে কিছুই থাকে না। সন্তানদের স্কুলে দিতে পারি না, সংসারে তিনবেলা খাবার জোটানোই কষ্টের। নৌকা আর জাল কেনার জন্য যে ঋণ নিয়েছিলাম, সেটার কিস্তি দেওয়া এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
মালেকের মতো আরও শত শত জেলে একই দুর্দশার শিকার। একসময় মাছ ধরা ছিল তাদের একমাত্র ভরসা, এখন তারা কেউ দিনমজুরি করছেন, কেউবা শহরে গিয়ে রিকশা চালাচ্ছেন। তবুও নদীর সঙ্গে মায়ার টান কাটাতে পারছেন না।
আরও পড়ুন: সাতক্ষীরায় ধানের শীষের কান্ডারী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে এইচ. এম. রহমত উল্লাহ পলাশ
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিস্তার পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া, অবৈধভাবে মাছ ধরা, প্রজনন মৌসুমে মাছের যথাযথ সুরক্ষা না থাকা—সব মিলিয়ে জেলেদের জীবনে নেমে এসেছে এই দুর্দশা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, মাছের প্রজনন ক্ষেত্র রক্ষা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে না পারলে নদীপাড়ের হাজারো পরিবার একসময় পুরোপুরি বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
তিস্তা পাড়ের জেলেদের একটাই আক্ষেপ
“নদী যদি আমাদের আর ভরসা না হয়, তবে আমরা বাঁচব কী দিয়ে?”