শ্রীমঙ্গলে রঙিন আলপনা সজ্জিত সড়ক: পর্যটন ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির নতুন দৃষ্টান্ত

চায়ের রাজধানী খ্যাত অন্যতম পর্যটন নগরী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বাংলাদেশ চা-গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) সংলগ্ন আধা কিলোমিটার সড়ক পেয়েছে নতুন এক দৃষ্টিনন্দন রূপ। শহরের ভানুগাছ রোডের বিটিআরআই পয়েন্ট থেকে শুরু করে বিটিআরআই ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে মনোমুগ্ধকর রঙের আলপনা সজ্জিত করা হয়েছে। বিটিআরআই-এর সড়ক ছিড়ে বয়ে চলা দৃষ্টিনন্দন ছড়ার উপর নির্মিত রড সিমেন্টের ব্রিজটিও সাজানো হয়েছে রঙিন সাজে। উপজেলার ব্যস্ততম এই সড়কটির নতুন রূপে মুগ্ধ পর্যটকরা ও এলাকাবাসী।
শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি পর্যটন স্পটগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করতে শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের এই উদ্যোগ। রাস্তার দু’পাশ জুড়ে বিস্তৃত সবুজ চা বাগানের মাঝে বয়ে চলা সড়কের দু’পাশের গার্ডওয়ালে আঁকা এসব বৈচিত্র্যপূর্ণ আলপনা যেন প্রকৃতির সঙ্গে এক অপূর্ব শিল্পের ছোঁয়া লেগেছে।
আরও পড়ুন: সাতক্ষীরা তালায় ঘেরের আইলে সবজি চাষ, কৃষিতে সম্ভাবনার হাতছানি
সপ্তাহের অন্যান্য দিনের পাশাপাশি শুক্র ও শনিবার রঙিন এই সড়কে দর্শনার্থী ও পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় লেগেই থাকে। কেউ প্রিয়জনের হাত ধরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কেউ পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে এই মনোরম সৌন্দর্য ক্যামেরায় বন্দি করছেন, কেউ সেলফি তুলে স্মৃতির মানচিত্রে তুলে রাখছেন। কেউ কেউ লাইভ ও ভিডিওতে ধারণ করে ফেসবুক ও ইউটিউবে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
পথচারী ও স্থানীয়রা বলছেন, এ রকম রঙিন ও সৃজনশীল সড়ক আমাদের শ্রীমঙ্গলে আগে কখনও দেখা যায়নি। এটা শুধু সৌন্দর্য নয়, বরং একটি আনন্দের উৎস হয়ে উঠেছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শ্রীমঙ্গলের অন্যান্য পর্যটন স্পটগুলোও আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে, এমনটাই আশা করছেন সচেতন মহল।
আরও পড়ুন: সাতক্ষীরায় ধানের শীষের কান্ডারী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে এইচ. এম. রহমত উল্লাহ পলাশ
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, “শ্রীমঙ্গল দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় একটি পর্যটন এলাকা। পর্যটকদের আকর্ষণ করতে এবং তাদের উপস্থিতি আরও আনন্দময় করতে, পাশাপাশি শহরকে পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিকভাবে সাজাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে যেমন সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি পর্যটকদের আকর্ষণও বেড়েছে।”
স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এমন সৃজনশীল ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শ্রীমঙ্গলের চা বাগানভিত্তিক পর্যটন শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তারা আরও বলেন, এই ধরণের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলতে থাকলে শ্রীমঙ্গল হবে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য।
এই প্রকল্পের ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। রঙিন সড়কের আশপাশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ছোটখাটো স্টলও বেড়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় দোকানদাররা। সব মিলিয়ে শ্রীমঙ্গলের এই রঙিন সড়ক হয়ে উঠেছে একটি নতুন ‘ভিজ্যুয়াল ল্যান্ডমার্ক’।