কাপাসিয়ায় বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় বিএনপির সদস্য নবায়ন কর্মসূচি পালিত

Sadek Ali
এফ এম কামাল হোসেন, কাপাসিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:৫৫ অপরাহ্ন, ৩০ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ৮:২৭ পূর্বাহ্ন, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নতুন সদস্য সংগ্রহ, ফরম বিতরণ ও নবায়ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ৩০ আগস্ট শনিবার সকালে ‘ফকির মজনু শাহ্ সেতু’র পশ্চিম প্রান্তে চত্বরে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা হয়। 

উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ রিয়াজুল হান্নান।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় প্রকাশ্যে যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা ও আজগর হোসেন খানের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতা ফকির মোঃ মমতাজ উদ্দিন রেনু। 

এসময় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ফ ম এমদাদুল হোসেন, বিএনপির প্রবীণ নেতা গাজীপুর আদালতের জিপি অ্যাডভোকেট মোঃ সোলায়মান দর্জী, জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতা আফজাল হোসাইন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. খলিলুর রহমান, জেলা ও উপজেলা বিএনপির প্রবীণ নেতা আঃ করিম বেপারী, জেলা মহিলা দলের সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌসী, জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব ফকির ইস্কান্দার আলম জানু, কাপাসিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সদস্য ও কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, উপজেলা বিএনপি নেতা সুপ্রিম কোর্টের সহকারী এটোর্ণি জেনারেল মোঃ ইকবাল হোসেন শেখ প্রমুখ। 

আরও পড়ুন: সিলেট স্টেডিয়ামে বিসিবির দুর্বল ব্যবস্থাপনা, গেট ভেঙে ঢুকলো দর্শকরা

এছাড়া উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। 

জাঁকজমকপূর্ণ বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ ফরম বিতরণ ও নবায়ন কর্মসূচি স্থলে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের জন্য আলাদা বুথ স্থাপন করা হয়েছিল। নির্ধারিত বুথ থেকে নিজ নিজ এলাকার বিএনপি দলীয় কর্মীরা ২০ টাকা ফি দিয়ে সদস্য ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রধান অতিথি দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দদের মাঝে আনুষ্ঠানিক ভাবে নবায়ন ফরম বিতরণ করে এ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন। 

প্রধান অতিথি শাহ রিয়াজুল হান্নান দলীয় নেতৃবৃন্দদের উদ্দেশ্যে বলেন, দলের সদস্য পদ নবায়ন কর্মসূচি বিগত দিনেও পরিচালিত হয়েছে। ওই দিনের পরিস্থিতি আর আজকের প্রেক্ষাপট এক নয়। সুযোগ সন্ধানীরা আমাদের দূর্বলতার সুযোগ নিতে পারে। তাই সবাইকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। কোনো বিতর্কিত লোকজন যেন দলের সদস্য হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হতে না পারে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিএনপি নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছে।

সুযোগসন্ধানীদের থেকে সাবধান থাকতে হবে। আজ অনেকেই বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করে দেশের সাধারণ মানুষদের ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চায়। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোট ছাড়া অন্য কোনো পদ্ধতিতে ভোট হলে বিএনপি তা মেনে নিবে না। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বরাবরই বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিগত দিনে যারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল, তারাই ৫ আগস্টের পর রাতারাতি পার্টি দিয়ে ছাত্র শিবির হয়ে গেলো। তারা আজ সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। ভিপি নূরুল হক নূরুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার উপর যারা হামলা করেছে, তারা কখনো দেশপ্রেমিক হতে পারেনা। বিগত দিনে যারা সুস্থ ধারার রাজনীতির সাথে বেঈমানি করেছে, তারাই পুনরায় একাকার হয়েছে। জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের পোষা একটি দল ছিল। আওয়ামীলীগকে টিকিয়ে রাখতে তারা পাতানো নির্বাচনে অংশগ্রহন করছে। তাদের নিজস্ব কোন মতাদর্শ নেই। আওয়ামী লীগ যা বলতো, তারা তাই করতো। দেশের রাজনীতিতে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বিএনপি সবসময়ই সোচ্চার ছিল।

দেশবিরোধী চক্রান্ত আগে কখনো সফল হয়নি, আগামী দিনেও তা সম্ভব না। সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পিছনে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে যারা জড়িত আছে, তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হবে। বিএনপি একমাত্র দল, যে দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগ হত্যা, গুম ও হামলা মামলা চালিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতা যুদ্ধে সরাসরি বিরোধিতা করেছে। এদেশের নিরিহ মানুষকে হত্যা এবং মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে তারা ছিনিমিনি খেলেছে। তাদের থেকে সব সময় সতর্ক থাকতে হবে। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসাবে নিজেকে ঘোষণা করে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি ভোট প্রার্থনা করে তিনি বলেন, আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত হন করলে আমার পিতা প্রয়াত নেতা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আসম হান্নান শাহ্ স্বপ্ন পূরণে কাজ করবো। উনার রেখে যাওয়া উন্নয়ন কর্মকান্ড গুলো সম্পন্ন করা হবে।  পরিবেশ বান্ধব কলকারখানা গড়ে তোলা হবে। সমাজ থেকে মাদক‌ কারবারিদের মূল উৎপাটন করা হবে। যুব সমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে বেকারত্ব দূর করা হবে।