পাগলা মসজিদে ১২ কোটি ৯ লাখ টাকা দান, ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড

কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদে আবারও দানের ঢল দেখা গেছে। গত চার মাস ১৭ দিন পর আজ শনিবার সকাল ৭টায় মসজিদের ১৩টি লোহার দানবাক্স খোলার সঙ্গে সঙ্গেই চোখে পড়ে টাকার পাহাড়। এই দানে পৌঁছেছে ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা, যা মসজিদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দানের রেকর্ড।
দানের টাকা গণনার জন্য সাড়ে চার শতাধিক কর্মী নিয়োগ করা হয়, যার মধ্যে মসজিদের কর্মচারী, মাদরাসার ছাত্র, ব্যাংক কর্মকর্তা এবং স্বেচ্ছাসেবকরা ছিলেন। টানা ১৩ ঘণ্টার গণনা শেষে রাত ৮টার পর এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। গণনা কাজে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল, যেখানে সেনা, পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় প্রকাশ্যে যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা
এই দানে শুধু নগদ টাকা নয়, বরং পাওয়া গেছে স্বর্ণালঙ্কার, রূপা, বৈদেশিক মুদ্রা এবং গবাদি পশু, হাঁস-মুরগির মতো বিভিন্ন উপহারও। এবার প্রথমবারের মতো চালু করা হয় অনলাইনে দানের ব্যবস্থা, যেখানে ৫ লাখেরও বেশি টাকা জমা পড়েছে।
পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবং কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান জানান, এই দানকারীরা বিশ্বাস করেন যে পাগলা মসজিদে দান করলে মনোবাসনা পূর্ণ হয়। মসজিদের তহবিলের অর্থ থেকে ক্যান্সার, কিডনি ও অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত দরিদ্র লোকদের সহায়তা করা হয় এবং এখানে একটি মাদরাসা পরিচালিত হয়।
আরও পড়ুন: সিলেট স্টেডিয়ামে বিসিবির দুর্বল ব্যবস্থাপনা, গেট ভেঙে ঢুকলো দর্শকরা
এই অর্থ দিয়ে প্রায় শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে একটি আন্তর্জাতিক মানের বহুতল ইসলামিক কমপ্লেক্স, যার কাজ শিগগিরই শুরু হবে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী জানিয়েছেন, গণনা প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ সুরক্ষিত এবং স্বচ্ছ ছিল। পাগলা মসজিদ শুধুমাত্র ধর্মীয় নয়, কিশোরগঞ্জবাসীর আবেগ ও বিশ্বাসের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে।