বাসচালককে মারধরের অভিযোগে এএসপির বিরুদ্ধে তদন্তে কমিটি
সিটবিহীন টিকিটে স্বামীর বাসযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিতর্কে জড়িয়েছেন নওগাঁর সহকারী পুলিশ সুপার (সাপাহার সার্কেল) শ্যামলী রানী বর্মণ। তাঁর বিরুদ্ধে এক বাসচালককে নিজ কার্যালয়ে ডেকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্তে বুধবার তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার (৫ জানুয়ারি) রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের ‘হিমাচল’ নামের একটি বাসে। বাসের সুপারভাইজার সিয়ামের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসটি সাপাহার থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ওই বাসে ধানসুরা নামার কথা বলে সিটবিহীন টিকিট কাটেন এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণের স্বামী জয়ন্ত বর্মণ। তিনি নিজেকে রাজশাহীর একটি কলেজের শিক্ষক পরিচয় দিয়ে অন্য এক যাত্রীর নির্ধারিত সিটে বসেন।
আরও পড়ুন: নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চলন্ত বাসে আগুন, নিহত ৪
বাসটি দিঘার মোড়ে পৌঁছালে সুপারভাইজার সিয়াম তাঁকে সিট ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন। এ সময় জয়ন্ত বর্মণ নিজেকে সার্কেল এএসপির স্বামী পরিচয় দিয়ে হুমকি দেন বলে অভিযোগ। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তিনি বাসচালক বাদলের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। ধানসুরায় নামার আগে চালক ও সুপারভাইজারকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকিও দেন তিনি।
ভুক্তভোগী চালক বাদলের অভিযোগ, বাস থেকে নামার পর একই পরিবহনের সাপাহার কাউন্টারের টিকিট মাস্টারকে এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণ অফিসে ডেকে নেন। ওই টিকিট মাস্টারের মোবাইল ফোন থেকে তাঁকে কল করে হুমকি দেওয়া হয়। পরে রাত ১০টার দিকে বাস নিয়ে সাপাহারে ফেরার পর বাদলকে এএসপির কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: ১২ বছর ভাত মুখে না তোলা ‘বিএনপিভক্ত’ নিজাম মারা গেছেন
বাদলের দাবি, অফিসে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণ পেটে লাথি মারেন। এরপর তাঁর স্বামী জয়ন্ত বর্মণ মারধর শুরু করেন। পরে এএসপির নির্দেশে দেহরক্ষী আনন্দ বর্মণ এসএস পাইপ দিয়ে তাঁকে বেধড়ক পেটান। এক পর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারান।
মারধরের পর স্থানীয় কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা না নেওয়ার শর্তে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন বাদল। পরে সোমবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন তিনি। বাদল বলেন, আমাকে শরীরের গোপন জায়গাগুলোতে মেরেছে। এএসপি ম্যাডাম বডিগার্ডকে বলে, “মাইরা হাত-পা ভেঙে দে।” আমি এর বিচার চাই। শ্রমিক বলে আমরা কি মানুষ না?
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাসযাত্রী স্কুলশিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, শিক্ষিত মানুষ হয়েও জয়ন্ত বর্মণের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাজশাহী কলেজের ছাত্র সজীব আহমেদের ভাষ্য, স্ত্রীর ক্ষমতা দেখিয়ে তিনি বাসে খুবই অশোভন আচরণ করেছেন।
এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজশাহী সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম হেলাল। তিনি বলেন, ঘটনার পর বাস মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তারা এএসপিকে প্রত্যাহার ও তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে এএসপি শ্যামলী রানী বর্মণ মঙ্গলবার বলেন, তিনি ফোনে অনকলে থাকা অবস্থায় স্বামীর সঙ্গে খারাপ আচরণের বিষয়টি শুনেছেন। পরে চালক ও সুপারভাইজারকে অফিসে ডাকেন। চালক এসে দুঃখ প্রকাশ করলেও সুপারভাইজার আসেননি। মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। মারধরের অভিযোগকে ‘গুজব’ বলেও উল্লেখ করেন এএসপি।
এদিকে বুধবার দুপুরে পুলিশ মিডিয়া গ্রুপ নওগাঁর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠানো এক বার্তায় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জয়ব্রত পালকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।





