শরীয়তপুরে আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩:২২ অপরাহ্ন, ১০ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ২:১৮ অপরাহ্ন, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে শেষ হলো শরীয়তপুরে ১৪ দিন মেয়াদী উপজেলা, থানা, আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণের (অষ্টম ধাপ) কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠান।  শনিবার ( ১০ জানুয়ারি) বেলা ১১ টার দিকে জেলা আনসার ভিডিপি'র কার্যালয়ের হল রুমে জেলা কমান্ড্যান্ট মোঃ ফারুক ইসলামের সভাপতিত্বে  আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর ২৫ আনসার ব্যাটালিয়ান পরিচালক শুভ্র চৌধুরী। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের কল্যাণে ইতিমধ্যেই গ্রামীণ নিরাপত্তা ও সামাজিক উন্নয়নে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। এই প্রশিক্ষণ শেষে তারা আরও দক্ষ হয়ে উঠেছেন। আমি আশা করি, এই সদস্যরা শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা নয়, সমাজের সব ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে নিজেকে উৎসর্গ করবেন। এ প্রশিক্ষণ সমাজে নিরাপত্তার বলয় জোরদার করবে এবং তরুণ প্রজন্মকে দেশসেবার প্রতি অনুপ্রাণিত করবে।

আরও পড়ুন: লুট হওয়া ২৭ অস্ত্র ও গুলির হদিস নেই, জনমনে শঙ্কা

তিনি আরও বলেন, আনসার সদস্যরা দেশের নিরাপত্তা ও সমাজের স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের দায়িত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই প্রত্যেক সদস্যকে পেশাগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাহিনীকে মর্যাদাশীল অবস্থানে দাঁড় করানোর লক্ষ্যে মহাপরিচালক মহোদয় নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ১৪ দিনের এ কোর্সে অংশ নেন ১০০ জন তরুণ সদস্য। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে শারীরিক অনুশীলন, ড্রিল, অস্ত্র চালানো এবং কীভাবে একজন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, গ্রামীণ উন্নয়ন ও আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে তা শেখানো হয়। অনুষ্ঠানে সেরা তিন প্রশিক্ষণার্থীকে পুরস্কৃত করা হয় এবং সবার হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে আটক ১০

পুরস্কৃতপ্রাপ্ত প্রশিক্ষণার্থী বলেন, আনসার মৌলিক প্রশিক্ষণ কোর্সে মাধ্যমে আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। এখন মনে হচ্ছে-আমরা চাইলে গ্রাম অঞ্চলের অসামাজিক কার্যাকলাপ মাদক, সন্ত্রাস, বাল্য বিবাহ, কিংবা নারী নির্যাতন সহ বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলায় বড় ভূমিকা রাখতে পারব।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর শরীয়তপুর জেলা কমান্ড্যান্ট মোঃ ফারুক ইসলাম বলেন, “প্রশিক্ষণ শুধু শারীরিক সক্ষমতা ও দক্ষতা বাড়ায় না, বরং গ্রামীণ সমাজে স্বেচ্ছাসেবার সংস্কৃতিকে জোরদার করে। এ ধরনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্যরা স্থানীয়ভাবে জনআস্থা বৃদ্ধি করেন, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে সহায়ক।

আরও বলেন, প্রশিক্ষণের মেধা, শ্রম ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রকল্পের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রতিষ্ঠা গড়ে তুলতে হবে এবং দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে হবে।