আশুলিয়া এসিল্যান্ড অফিসে নিরাপত্তা প্রহরীর নিয়ন্ত্রণে দাপ্তরিক কাজ

Sanchoy Biswas
আশুলিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৫৮ অপরাহ্ন, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকার আশুলিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে দাপ্তরিক নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এক নিরাপত্তা প্রহরীর বিরুদ্ধে ‘ছায়া প্রশাসন’ চালানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নামজারি (মিউটেশন) থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ছাড়াতে ওই প্রহরীর দ্বারস্থ হতে হয় সেবাগ্রহীতাদের। অভিযোগ রয়েছে, তাকে ‘ম্যানেজ’ না করলে ফাইল আটকে থাকে মাসের পর মাস।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এসিল্যান্ড অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী মানিক মিয়া কার্যত দাপ্তরিক সব কাজেই হস্তক্ষেপ করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অফিসে না থাকলেও তিনি তার কক্ষে বসে সরকারি কম্পিউটার ব্যবহার করে নামজারিসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর কাজ সম্পন্ন করেন। একজন নিরাপত্তা প্রহরীর হাতে দাপ্তরিক নথিপত্রের নিয়ন্ত্রণ থাকায় অফিসের গোপনীয়তা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুন: ক্ষমতা বদলালেও বদলায়নি সিটিজেন চার্টার: নেই কার্যকর মোবাইল-ইমেইল

ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিটি নামজারির জন্য মানিক মিয়াকে টাকা দিতে হয়। টাকা দিলে দ্রুত কাজ হয়ে যায়, অন্যথায় ফাইল নানা অজুহাতে পড়ে থাকে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, নামজারি করাতে মানিক মিয়াকে ৩ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। টাকা দেওয়ার পরই তিনি স্যারের কম্পিউটারে কাজ করে কাগজ ছাড় করে দেন। টাকা না দিলে ফাইল নড়েই না।

আরও পড়ুন: তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুইটি আসনের সমস্যা সমাধান

এসিল্যান্ড কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অনুপস্থিতিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্ধারিত ও সংরক্ষিত কক্ষে বসে এক সেবাগ্রহীতাকে পাশে নিয়ে দাপ্তরিক কম্পিউটারে কাজ করছেন প্রহরী মানিক মিয়া। যা সরকারি চাকরির বিধিমালা ও নিরাপত্তা প্রোটোকলের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

অভিযোগের বিষয়ে মানিক মিয়া বলেন, অফিসের কিছু কাজ আমি করি। তবে এটা নিয়মে না থাকলেও স্যারের কম্পিউটারে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুমতি আছে। এসিল্যান্ড স্যার যখন যে আদেশ দেন সেই আদেশ পালন করি। কারো কাছ থেকে কোনো টাকা নেই না। 

​এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, তাকে (মানিক) কেবল একটি চিঠি পাঠানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। 

​অন্যদিকে, সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন। তিনি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, একজন নিরাপত্তা প্রহরীর হাতে প্রশাসনের চাবিকাঠি থাকা অত্যন্ত উদ্‌বেগজনক। এতে জালিয়াতি ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। অবিলম্বে এই সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।