নিকলীতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে ‘জরুরি’ চিকিৎসক নেই!

Any Akter
সোহেল রানা
প্রকাশিত: ৯:২৫ পূর্বাহ্ন, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১১:০৬ পূর্বাহ্ন, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। অভিযোগ রয়েছে, জরুরি বিভাগে অধিকাংশ সময়ই দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক উপস্থিত থাকে না।

দুর্ঘটনা, শ্বাসকষ্ট, স্ট্রোক কিংবা গুরুতর অসুস্থ রোগী নিয়ে জরুরি বিভাগে পৌঁছালেও চিকিৎসা শুরু করার পরিবর্তে প্রথমেই চিকিৎসককে মুঠোফোনে কল দিয়ে ডেকে আনতে হয়। অনেক সময় চিকিৎসক ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অবস্থান করায় হাসপাতালে আসতে দেরি হয়। এতে রোগীর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন: শেরপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল মারা গেছেন

স্থানীয় ও রোগীর স্বজনদের ভাষ্যমতে, জরুরি বিভাগের মতো অতীব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় চিকিৎসকের অনুপস্থিতি এখানে যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। রাতের অধিকাংশ সময় জরুরি বিভাগে চিকিৎসক পাওয়া যায় না। একাধিকবার ফোন করেও সাড়া মেলে না। তখন বাধ্য হয়ে রোগীর স্বজনদের চিকিৎসকের সরকারি বাসভবনে বাসায় গিয়ে ঘুম ভেঙে ডেকে আনতে হয়।

নিকলী সদরের ষাইটধার গ্রামের মোঃ লোকমান হোসেন(৬৫) বলেন, তার ছোট ভাই হঠাৎ করে মাথা চক্কর দিয়ে মাটিতে পড়ে গেলে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পেশার পরীক্ষা করেই জেলা সদরে রেফার্ড করে দেন বলে অভিযোগ তার।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর মতবিনিময়

আরও গুরুতর অভিযোগ করে খাইরুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসকের অনুপস্থিতিতে জরুরি বিভাগে কর্মরত ওয়ার্ড বয় ও এমএলএসএস প্রাথমিক চিকিৎসার নামে রোগীদের ইনজেকশন ও ওষুধ প্রয়োগ কাটা ছেঁড়া সেলাই করে করে থাকেন। কর্মচারীদের মাধ্যমে এভাবে চিকিৎসা দেওয়া রোগীর জীবনের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ বলে তিনি জানিয়েছেন।

হিমেল আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম চললেও উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না থাকা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও জবাবদিহির অভাবেরই বহিঃপ্রকাশ। হাসপাতালে এসে বুঝতে পারি, এখানে চিকিৎসক নয় ভাগ্যই বাঁচায় রোগীকে।

নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সজীব ঘোষ দৈনিক বাংলাবাজার পএিকা কে বলেন, জরুরি বিভাগের জন্য আলাদা কোন চিকিৎসক নাই। জরুরি বিভাগে অন কলের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসক সংকট থাকার কারণে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা কার্যক্রম কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে বলে তিনি জানান।