টাংগুয়ার হাওরে শক মেশিনে অবৈধভাবে মাছ নিধনের অভিযোগ

Any Akter
ধর্মপাশা, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১:৩১ অপরাহ্ন, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৩:০২ অপরাহ্ন, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলায়  টাঙ্গুয়ার হাওরে গভীর রাতে ব্যাটারিচালিত শক মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাছ নিধনের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যুতের শকে অসংখ্য মাছ মারা গিয়ে হাওরের পানিতে ভেসে উঠছে, যা হাওরের পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা গেছে, আল্ট্রাসনিক ইলেকট্রিক ফিশিং ইনভার্টার মেশিন ইতোমধ্যে টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের বিভিন্ন গ্রামের জেলেদের হাতে হাতে পৌঁছে গেছে। 

আরও পড়ুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি

স্থানীয়রা জানান, জেলেরা রাতের অন্ধকারে নৌকায় ব্যাটারিচালিত শক মেশিন সেট করে পানিতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে। এতে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ও জলজ প্রাণী তাৎক্ষণিকভাবে অবশ হয়ে মারা যায় বা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, যা পরে জেলেরা সহজেই সংগ্রহ করে। এতে বিদ্যুতের শকে মাছের ডিম এবং পোনা মাছ ব্যাপকভাবে ধ্বংস হচ্ছে, যার ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের আকাল দেখা দিচ্ছে। এ ছাড়া মাছের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে এবং মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত অন্যান্য জলজ কীটপতঙ্গও মারা যাচ্ছে।

হাওরপাড়ের বাসিন্দা নজির হোসেন জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাতের আঁধারে হাওরের বিভিন্ন অংশে শক মেশিন ব্যবহার করে মাছ শিকার করছে। এতে বড় মাছের পাশাপাশি পোনা, ছোট মাছ ও বিভিন্ন জলজ প্রাণীও মারা যাচ্ছে। এর ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে এবং হাওরের প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

আরও পড়ুন: ‎ফুলকপিতে রঙিন হয়ে উঠেছে কিশোরগঞ্জে কৃষকের ক্ষেত

এদিকে হাওর এলাকার সচেতন মহল অবৈধ মাছ নিধন বন্ধে নিয়মিত টহল জোরদার, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং শক মেশিন জব্দের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই জলাভূমির পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে নির্বিচারে শক মেশিন ব্যবহার করে মাছ নিধন চলতে থাকলে হাওরের জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়বে এবং ভবিষ্যতে মৎস্যসম্পদে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরে শক মেশিন ব্যবহার করে মাছ ধরা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। হাওরের পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।