চালকের হাত-পা বেঁধে মুখে গামছা ঢুকিয়ে গলায় ছুরি ঠেকিয়ে অটোরিকশা ছিনতাই
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর-সরাইল আঞ্চলিক সড়কের কুন্ডা ইউনিয়নের তুল্লাপাড়া নামক স্থানে এক অটোরিকশা চালককে মারধর করে হাত-পা বেঁধে, মুখে গামছা ঢুকিয়ে ও গলায় ছুরি ঠেকিয়ে অটোরিকশা ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নিয়েছে সংঘবদ্ধ একটি অপরাধী চক্র।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে। আহত চালক হুমায়ুন মিয়া (২৩) উপজেলার আশুরাইল গ্রামের লিয়াকত মিয়ার ছেলে। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: নান্দাইলের বাহাদুরপুর হাউজ লোকে-লোকারণ্য, নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্ছ্বাস
চিকিৎসাধীন অবস্থায় হুমায়ুন মিয়া সাংবাদিকদের জানান, “ইফতারের পর বুড়িশ্বর ইউনিয়নের ইছাপুরা জোড়া ব্রিজ এলাকা থেকে চারজন ব্যক্তি কুন্ডা যাওয়ার জন্য আমার অটোরিকশা রিজার্ভ নেন। তুল্লাপাড়া ও কুন্ডার মাঝামাঝি পৌঁছালে তারা হঠাৎ আমার গলায় ছুরি ধরে। এরপর মুখে গামছা ঢুকিয়ে ও মারধর করে আমাকে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে। তারা আমার অটোরিকশা ও সঙ্গে থাকা নগদ টাকা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।”
পরে সড়ক দিয়ে যাওয়া অন্য গাড়ির চালক ও যাত্রীরা তাকে আহত অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে নাসিরনগর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ছাড়পত্র দেন।
আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে ঢাকা পোস্টের প্রতিনিধির ওপর সন্ত্রাসী হামলা
ঘটনার খবর পেয়ে নাসিরনগর থানার সেকেন্ড অফিসার সোহেল শিকদার ও এসআই জাহান-ই-আলমসহ পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে আহত চালকের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শনের প্রস্তুতি নেন। পুলিশ দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে।
কুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ওমরাহ খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “নাসিরনগর-সরাইল আঞ্চলিক সড়কে সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সাধারণ মানুষ ও পরিবহন চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ও জোরদার পুলিশ টহল প্রয়োজন। প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আসবে। পরিস্থিতির উন্নয়নে সাধারণ জনগণ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে।”





