সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু: পাশাপাশি কবরে শায়িত হলো একই পরিবারের ৪ জন

Sanchoy Biswas
জাহাঙ্গীর লিটন, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:১৬ অপরাহ্ন, ২৭ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ১:৪৪ পূর্বাহ্ন, ২৮ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীতে একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন মুফতি আব্দুল মমিন। ঈদের ছুটি শেষে একটি প্রাইভেট কার ভাড়া করে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের তিতারকান্দি গ্রামের শশুর বাড়ি থেকে স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরে কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে গেল শেষ যাত্রা। কর্মস্থলে ফেরা হলো না তার। আর বাড়িতে ফিরে আসলো লাশ হয়ে। একজন নয়, চারজন।

নিহতরা হলেন- আব্দুল মমিন (৫০), তার স্ত্রী ঝর্না বেগম (৪০), ছেলে সাইফ (৭) ও মেয়ে লাবিবা (১৮) এবং গাড়ির চালক জামাল হোসেন (৫২)। তবে দুর্ঘটনায় আহত হলেও বেঁচে যান আব্দুল মমিনের ১২ বছরের ছেলে আবরার।

আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে ৩৬ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে অ্যাম্বুলেন্সযোগে একই পরিবারের চারজনের মৃতদেহ আনা হয় গ্রামের বাড়ি তিতারকান্দিতে। আর সকাল থেকে খোঁড়া হয় একে একে চারটি কবর। এদিন বাদ জুমা জানাজার নামাজ শেষে পাশাপাশি কবরে চারজনকে শায়িত করা হয়েছে।

আকস্মিক এমন মৃত্যুতে শোক বইছে পুরো তিতারকান্দিজুড়ে। এমন মৃত্যু যেন মেনে নিতে পারছে না গ্রামের বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন: ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মাদকবিরোধী অভিযানে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

স্থানীয় চা দোকানী নুর হোসেন বলেন, একই পরিবারের চারজনকে একসাথে কবর দেওয়া হবে। এমন ঘটনা আমার জীবনে এ প্রথম দেখলাম। এ শোক সইবার নয়।

নিহতদের স্বজনরা জানায়, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় কুমিল্লার মিয়ামি হোটেলে যাত্রাবিরতি শেষে হাইওয়েতে ওঠার সাথে সাথেই বিপরীত দিক থেকে আসা স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস তাদের বহনকৃত প্রাইভেটকারটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে প্রাইভেটকার চালকসহ পাঁচজন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় বেঁচে থাকা ১২ বছর বয়সী ছেলে আবরারকে কুমিল্লার ময়নামতি আর্মি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে লক্ষ্মীপুরের চরশাহী ইউনিয়নের তিতারকান্দি গ্রামে নানার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। তবে এখনো ট্র্যাজেডির ধকল কাটিয়ে উঠতে পারেনি শিশুটি।

আবরার জানায়, সে গাড়ির বাম পাশে বসা ছিল। মুহূর্তে একটি ধাক্কায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। জ্ঞান ফিরলে দেখতে পায় একটি সিএনজিতে পরিবারের সদস্যদের রক্তাক্ত মরদেহ।

নিহত মুফতি আব্দুল মমিন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমেদের ভগ্নিপতি।

ফয়সাল আহমেদ জানান, তার ভগ্নিপতি নিহত আব্দুল মমিন ঢাকার জামেয়া মোহাম্মদীয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার প্রধান মুহাদ্দিস ছিলেন। নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলায় আব্দুল মমিনের বাড়ী হলেও তিনি বিয়ে পর থেকে থাকতেন ঢাকার মোহাম্মদপুরে। আর বাড়ি করেছেন লক্ষ্মীপুরের তিতারকান্দি গ্রামে শ্বশুর বাড়ি এলাকায়। ঈদের ছুটিতে এখানেই এসেছেন, এখান থেকে ঢাকায় ফেরার পথে স্বপরিবারে নিহত হন। তবে বড় ছেলে হুজাইফা বাড়িতে ছিলেন।

তিনি আরও জানান, শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর তিতারকান্দির গ্রামের বশা হাজী পাটোয়ারী বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা নামাজ শেষে মসজিদের পাশে পারিবারিক কবরস্থানে চারজনকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে নিহতদের বাড়িতে যান লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা। তাৎক্ষণিক তিনি ওই পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দেন। পরবর্তীতে বিআরটিএয়ের মাধ্যমে নিহত পরিবারের আরও আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।