নিকলীর হাওর পরিদর্শনে এমপি ইকবাল, সহায়তার আশ্বাস

Sadek Ali
সোহেল রানা
প্রকাশিত: ৯:১৬ অপরাহ্ন, ০১ মে ২০২৬ | আপডেট: ৯:১৬ অপরাহ্ন, ০১ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র সরেজমিনে দেখতে  শুক্রবার নিকলী-বাজিতপুর আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল ক্ষতিগ্রস্ত হাওর অঞ্চল পরিদর্শন করেন।সংসদ সদস্য আজ উপজেলার বরুলিয়া ও জংসাই হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো নৌকায় ঘুরে দেখেন। এ সময় সোনালী ফসল হারানোর বেদনায় কৃষকদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। স্থানীয় কৃষকরা তাঁদের কষ্টের কথা তুলে ধরে জানান, চোখের সামনে একমাত্র সম্বল বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে কম্বাইন হারভেস্টার মেশিনের অপ্রতুলতা এবং তীব্র শ্রমিক সংকটে তাঁরা দিশেহারা।

কৃষকরা অভিযোগ করেন, বর্তমানে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১,৫০০ টাকা দিয়েও লোক পাওয়া যাচ্ছে না, যার ফলে মাঠের পাকা ধান ঘরে তোলা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।কৃষকদের সমস্যার কথা অত্যন্ত মনোযোগ ও সহানুভূতির সাথে শোনেন সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন এবং এই মানবিক সংকটে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, "কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আপনাদের এই অপূরণীয় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আমরা বদ্ধপরিকর। ধান কাটার জন্য পর্যাপ্ত হারভেস্টার মেশিন ও প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্যের সাথে উপস্থিত ছিলেন নিকলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোছাঃ রেহেনা মজুমদার মুক্তি এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ মোকাররম সর্দার। এছাড়াও উপস্থিত অফিসার ইনচার্জ মোঃ মাহবুবুর রহমানসহ ,উপজেলা বিএনপির বর্তমান ও সাবেক বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।উপজেলা প্রশাসন জানায়, বোরো ফসল রক্ষায় এবং কৃষকদের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। সংসদ সদস্যের এই পরিদর্শন ও ত্বরিত পদক্ষেপে অসহায় কৃষকদের মাঝে কিছুটা আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে।

আরও পড়ুন: পিলখানা বিস্ফোরক মামলায় ৮ সাবেক বিডিআর সদস্য জামিনে মুক্ত