শরীয়তপুরে রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের উপর হামলা, আহত ৭

Sadek Ali
মিরাজ পালোয়ান, শরীয়তপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩:৪৩ অপরাহ্ন, ১৬ মে ২০২৬ | আপডেট: ৪:০৭ অপরাহ্ন, ১৬ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক রোগীর মৃত্যুর পর শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসককে বেদম মারধর করেছেন রোগীর স্বজনেরা। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার নাসির ইসলাম এখন সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাকে ঢাকা মেডিকেলের আইসিইউতে পাঠানোর কথা জানিয়েছেন সিভিল সার্জন।

শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে হাসপাতালের ইমারজেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হাসপাতালটির আরও এক অফিস সহায়কসহ ৫ আনসার সদস্যকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। এছাড়া  ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এই ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। তবে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। 

আরও পড়ুন: শ্যামনগরে ১৪৭তম ঐতিহাসিক ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

আহতরা হলেন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার নাসির ইসলাম (২৯), অফিস সহায়ক এসকেন্দার শেখ (৫৮), আনসার গার্ড কমান্ডার এপিসি আব্বাস আলী (৪৬), সদর হাসপাতালের আনসার সদস্য সোহেল সরদার (২৫), কামরুল (৩০), আজিজুল হক (২৬) ও কাউসার (২৮)। চিকিৎসক নাসির ইসলাম শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। আর অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। 

আহত চিকিৎসক নাসির ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার লাল মিয়া কাজী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু অভিযোগ এনে  রাত ১টার দিকে লাল মিয়া কাজীর স্বজনরা ৭০/৮০ জন মিলে চিকিৎসক নাসির ইসলাম  ওপর চড়াও হন। এ সময় হামলাকারীরা ইমারজেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে ঢুকে নাসিরের মাথায় পাথর ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে এবং কিল–ঘুষি মেরে গুরুতর আহত করেন। এসময় হাসপাতালের অফিস সহায়ক এসকেন্দার ও ৫ আনসার সদস্য চিকিৎসককে উদ্ধার করতে আসলে তাদেরকে কিল-ঘুষি মেরে আহত করা হয়। পরে চিকিৎসক নাসিরকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এঘটনায় সোলাইমান কাজী (আল আমিন) ও জসীম উদ্দিন নামে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

আরও পড়ুন: কাপাসিয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে গোয়ালঘরে আগুন : লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি

আহত চিকিৎসক নাসির ইসলাম বলেন, লাল মিয়া হার্ট অ্যাটাকের রোগী ছিলেন। রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে তাকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করি। কিন্তু রোগীর স্বজনরা তাকে রাতে ঢাকা নেবে না, সকালে নেবে। পরে শুনি রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এখানে আমার কি দোষ! আমিতো প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। পরেবর্তীতে লোকজন এসে রুমে ঢুকে। আমাকে একজন পাথর দিয়ে আঘাত করে। অন্যরা শরীরের বিভিন্ন যায়গায় আঘাত করে।

আহত অফিস সহায়ক এসকেন্দার শেখ বলেন, ৭০/৮০ জন লোক স্যারকে মারধর করছিলো। তখন বাঁচাতে গেলে আমাকেও কিল-ঘুষি মারে। আমার জামা ছিঁড়ে ফেলে।আমি এই হামলার বিচার দাবি করছি। 

আটক সোলাইমান কাজী (আল আমিন)  বলেন, আমার মামা চিকিৎসকের অবহেলায় মৃত্যু বরন করেছেন। কে বা কারা ডাক্তারের ওপর হামলা চালিয়েছে জানিনা। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না।

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, এ বিষয়ে এখনও মামলা হয়নি। মামলার প্রস্তুতি চলছে। আমরা আল-আমিন ও জসীম নামের দুজনকে আটক করেছি। 

শরীয়তপুর সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন বলেন, চিকিৎসক নাসির ইসলামের অবস্থা আশংকাজনক। তাকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করা হয়েছে। আর হামলার ঘটনায় চার সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হবে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

তিনি বলেন, চিকিৎসকের ওপর এমন হামলা চলতে থাকলে চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিবে কিভাবে? এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।