কমছে তিস্তার পানি, কেটেছে বন্যার শঙ্কা

Sadek Ali
মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২:৫১ অপরাহ্ন, ২৪ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২:৫১ অপরাহ্ন, ২৪ জুন ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

উজান থেকে পাহাড়ি ঢল আসা বন্ধ হওয়ায় লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত কমতে শুরু করেছে। বুধবার (২৪ জুন) দুপুর ১২টায় হাতীবান্ধা উপজেলার ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পানি কমে যাওয়ায় তিস্তাপাড়ের নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলে স্বস্তি ফিরেছে এবং আপাতত বন্যার শঙ্কা কেটে গেছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবোর তথ্যমতে, বুধবার দুপুর ১২টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ০১ মিটার, যেখানে এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। এর আগে সকাল ৯টায় পানির সমতল ছিল ৫২ দশমিক ২০ মিটার এবং সকাল ৬টায় ছিল ৫২ দশমিক ৪০ মিটার। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পানির উল্লেখযোগ্য হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে।

আরও পড়ুন: গ্রেপ্তারের একদিন পর চট্টগ্রাম কারাগারে যুবলীগ নেতার মৃত্যু

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার জানান, মঙ্গলবার দুপুর ৩টায় তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর সন্ধ্যা পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও রাত ৮টার পর থেকে পানি কমতে শুরু করে।

তিনি বলেন, “ভারতের উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামলে তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়, আবার ঢল বন্ধ হলে পানি কমে যায়। গত কয়েকদিন ধরে তিস্তার পানি ওঠানামা করছে। বর্তমানে পানি কমতে থাকায় তিস্তাপাড়ের প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে পানি নেমে গেছে এবং আপাতত বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা নেই।”

আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউ মার্কেটে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই রাজশাহী স্টোর

মঙ্গলবার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী বিভিন্ন চরাঞ্চল এবং নিম্নভূমিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়। তবে রাত থেকে পানি কমতে শুরু করায় স্বস্তি ফিরে আসে নদী তীরবর্তী জনপদে।

হাতীবান্ধা উপজেলার চর গড্ডিমারী এলাকার কৃষক সিরাজ উদ্দিন (৬৫) বলেন, “মঙ্গলবার দুপুর থেকে যেভাবে পানি বাড়ছিল, তাতে খুব ভয় পেয়েছিলাম। সন্ধ্যা পর্যন্ত পানি বাড়তেই ছিল। মনে হচ্ছিল আবার বড় ধরনের বন্যা হবে। কিন্তু রাত ৮টার পর পানি কমতে শুরু করে। এখন নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নেমে গেছে এবং নদীর পানিও কমছে।”

লালমনিরহাট সদর উপজেলার চর গোকুন্ডা এলাকার কৃষক সহিদার রহমান (৬০) বলেন, “মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু রাতেই পানি কমতে শুরু করায় আর যেতে হয়নি। বুধবার ভোরের মধ্যেই এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। তবে তিস্তার পানি যেভাবে ওঠানামা করছে, তাতে আমরা এখনো শঙ্কামুক্ত নই।”

স্থানীয়দের মতে, তিস্তার পানি দ্রুত বৃদ্ধি ও হ্রাস পাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকায় নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডও পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হলে তিস্তার পানি আবারও বাড়তে পারে। তাই নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।