গণমামলার বাদী নিজেই জানেন না মামলার বিষয়ে

Shahrier Islam Pallab
মোস্তফা কামাল, চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:২৬ অপরাহ্ন, ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১২:২৬ অপরাহ্ন, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

​ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা একটি গণমামলা নিয়ে পুরো জেলাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ১৯২ জনের নাম উল্লেখ করে দায়ের করা ওই মামলার ১৯১ নম্বর আসামি করা হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চরভদ্রাসন উপজেলা শাখার সভাপতি ও সমাজসেবক মুফতি রায়হান জামিলকে। তবে ঘটনার দিন তিনি রাজধানীতে অবস্থান করছিলেন বলে জোরালো দাবি করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে ভাঙ্গা থানার মানিকদহ ইউনিয়নের পুখুরিয়া ব্রিজ এলাকায় সড়ক অবরোধ ও চলন্ত যানবাহনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মো. কাইয়ুম সিকদার বাদী হয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ভাঙ্গা থানায় মামলাটি  দায়ের করেন। এজাহারে গাড়ির ভাঙা কাচ, ইটের খোয়া ও বাঁশের লাঠি জব্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লা সিটি নির্বাচন ঘিরে আগাম প্রচারণা

তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, মামলার বাদী নিজেই এই মামলার বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞ! সম্প্রতি বাদীর একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, বাদী বলছেন তিনি মামলার বিষয়ে কিছুই জানেন না। ভাঙ্গা থানার ওসির কথামতো থানায় গিয়ে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করেছিলেন তিনি; পরে জানতে পারেন ১৯২ জনকে আসামি করে দায়ের করা ওই চাঞ্চল্যকর মামলার বাদী তিনিই! এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভাঙ্গা থানার ওসির মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

​মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত নাকি অর্থবাণিজ্যের কৌশল এটা এখন টক অফ দা সিটিতে পরিণত হয়েছে। মিথ্যা মামলায় নাম জড়ানোর বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মুফতি রায়হান জামিল বলেন, ঘটনার দিন আমি সম্পূর্ণ ভিন্ন স্থানে অর্থাৎ রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করছিলাম। আমার এই দাবির পক্ষে একাধিক ডিজিটাল ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ আমার হাতে রয়েছে।"

আরও পড়ুন: জৈন্তাপুর বটতলায় আলেম সমাজ ও মুরব্বিয়ানদের জরুরি আলোচনা সভা

​তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে সামাজিকভাবে হেয় ও রাজনৈতিক ভাবে দমন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে।  এদিকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চরভদ্রাসন উপজেলা শাখা। সংগঠনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ঢালাওভাবে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সমাজসেবকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের গায়েবি মামলা দায়ের সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত ও হয়রানিমূলক। অবিলম্বে মুফতি রায়হান জামিলসহ সকল নিরপরাধ ব্যক্তির নাম এই মামলা থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়েছে।

​এ ধরনের ঢালাও ও ভূয়া মামলার নেপথ্যে থাকা প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।