ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল থেকে নবজাতক চুরি

Sadek Ali
ব্রাহ্মণবাড়িয়া (সদর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১:২৩ অপরাহ্ন, ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২:১৮ অপরাহ্ন, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল থেকে নবজাতক ছেলে শিশুকে চুরি করে নিয়ে গেছে এক নারী। গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে হাসপাতালের গাইনী ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। চুরি হওয়া শিশুটি জেলার বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ইউনিয়নের চান্দুরা গ্রামের শামীম মিয়া ও মরিয়ম বেগম দম্পতির প্রথম সন্তান।

শিশুটির পরিবার জানায়, গত সোমবার প্রসব ব্যাথা নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয় মরিয়মকে। পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেন। বিয়ের তিন বছর পর প্রথম পুত্র সন্তান হওয়াই পরিবারটি অনেক খুশি ছিল। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরে অজ্ঞাত (৪৫) বোরকা পরিহিত এক নারী রোগীর স্বজনের ছদ্মবেশ ধরে মরিয়ম ও তার মায়ের সাথে সম্পর্ক তৈরী করে। এর কিছুক্ষণ পর নবজাতক শিশুটির মায়ের ব্যাথা অনুভব হলে ওই নারী সহযোগীতার কথা বলে শিশুটিকে কোলে নেয়। পরে ওই নারী শিশুটিকে নিয়ে ওই কক্ষের গেইটের কাছে যায়। এ সময় মরিয়ম ওই নারীকে রুমের ভেতর আসতে বলে কিন্তু মুহুর্তের মধ্যে ওই প্রতারক নারী সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এরপর অনেক খোঁজাখুজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন হাসপাতালে এসে তদন্ত কাজ শুরু করে। পরে সিসিটিভি ফুটেজে দেখো যায় ওই নারী শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছে।

আরও পড়ুন: কাফনের কাপড় পরে আন্দোলনের পর নিয়োগপত্র পেলেন ২০ শিক্ষক

নবজাতক শিশুটির নানী মমতাজ বেগম জানান, দুপুরে ওই অজ্ঞাত নারী এসে অন্য এক রোগীর স্বজন পরিচয় দিয়ে তাদের সাথে প্রথমে কর্তাবার্তা শুরু করেন। পরে তাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেন। এক পর্যায়ে মরিয়মের পেট ব্যাথা শুরু হলে ওই শিশুটিকে কোলে নিয়ে রাখে। একপর্যায়ে মহূর্তের মধ্যে সেখান থেকে শিশুটি নিয়ে চলে যায়।

শিশুটির মা মরিয়ম বেগম বলেন, বিয়ের তিন বছর পর আমার প্রথম পুত্র সন্তান হয়েছে। ওই নারী প্রতারণা করে আমার শিশুটি চুরি করে নিয়ে গেছে। আমি আমার বুকের ধনকে ফেরত চাই। সরকার ও পুলিশ যেন দ্রুত উদ্ধার করে আমার সন্তানকে ফিরিয়ে দেয়। এবং ওই নারীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।

আরও পড়ুন: নবীনগরে অবৈধ বালু উত্তোলন, ড্রেজার ও পাইপ জব্দ

শিশুটির বাবা শামীম মিয়া বলেন, আমি আমার সন্তানকে ফেরত চাই। সন্তান না নিয়ে হাসপাতাল থেকে যাব না। সরকারি হাসপাতাল থেকে শিশু চুরি হয়ে যাবে এটা কি করে হয়। এখানে নিরাপত্তা কোথায়। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক রতন কুমার ঢালী বলেন, হাসপাতালে সব সময় রোগীদের স্বজনদের অতিরিক্ত ভিড় ও চাপ থাকে। শিশু চুরির খবর আমরা পেয়েছি। পরিবারের লোকজনদের অসচেতনতায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য সার্বক্ষণিক আনসার নিয়োজিত থাকলে সুবিধা হয়। সিসিটিভিগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। সেগুলো পরিবর্তন করে নতুন সিসিটিভির জন্য উর্ধ্বতন মহলে আবেদন দেয়া আছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাইরুল আলম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ভিকটিমের পরিবার ও আশপাশের লোকজনদের সাথে কথা বলেছি। হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ওই নারীকে সনাক্তসহ শিশুটি উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।