ঘটে আগমন নৌকায় গমন-দেবী দুর্গার মর্ত্যে আগমন
বগুড়া জেলা পূজা উদযাপন কমিটির তথ্য অনুযায়ী জেলার ১৩টি উপজেলায় এবার ৭৩১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে বগুড়া সদর ও মহানগরসহ ১২১টি, শিবগঞ্জে ৩৯টি, আদমদীঘিতে ৬৯টি, দুপচাঁচিয়ায় ৪৫টি, কাহালুতে ৪২টি, নন্দীগ্রামে ৪৮টি, শাজাহানপুরে ৪৮টি, গাবতলীতে ৮৫টি, সোনাতলায় ৫৩টি, শেরপুরে ৯৪টি, ধুনটে ৩৩টি ও সারিয়াকান্দিতে ২৯টি, মোকামতলায় ২৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উৎসবমুখর পরিবেশ ও শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপনে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি মণ্ডপে থাকবে সিসি ক্যামেরার সুব্যবস্থা।
উক্ত শারদীয় উৎসবে ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই প্রতিপাদ্যের মধ্য দিয়ে প্রতি বছরের ন্যায় আবার আসছে সনাতন (হিন্দু সম্প্রদায়) ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সনাতন বিশ্বাস ও পঞ্জিকা মতে এবার জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা ঘটে চড়ে, স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসবেন (আগমন), যার ফল হিসেবে বসুন্ধরা শস্যপূর্ণা হয়ে উঠবে। দেবী স্বর্গলোকে বিদায় (গমন) নেবেন নৌকায় চড়ে, যার ফল হচ্ছে বন্যা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রোগ ও মহামারির প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাবে।
আরও পড়ুন: বগুড়ার দুই থানায় নতুন ওসি, বদলি আরও ৫ পুলিশ কর্মকর্তা
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শাস্ত্রীয় মতে বোধন দুর্গাপূজার অন্যতম আচার। বোধন শব্দের অর্থ জাগরণ বা চৈতন্যপ্রাপ্ত। পূজা শুরুর আগে সন্ধ্যায় বেলশাখায় দেবীর বোধন দুর্গাপূজার একটি অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গ। শরৎকালের দুর্গাপূজায় এই বোধন করার বিধান রয়েছে। বিভিন্ন পুরাণ অনুসারে ভগবান রামচন্দ্র শরৎকালে রাক্ষসরাজ রাবণকে বধের উদ্দেশ্যে দুর্গাপূজা করেন। তিনি অকালে এই বোধন করেন বলেই এটি অকালবোধন নামেও খ্যাত। তবে বসন্তকালে চৈত্র মাসে যে দুর্গাপূজা তথা বাসন্তীপূজা হয়, তাতে বোধন করার প্রয়োজন হয় না।
আজ শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে এই বোধনের মাধ্যমেই দক্ষিণায়নের নিদ্রিত দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙার জন্য বন্দনা পূজা করা হয়। সে অনুযায়ী ১৬ই অক্টোবর ২০২৬ইং হতে ৩১শে আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা, শুক্রবার সকল পূজামণ্ডপে-মন্দিরে পঞ্চমীতে সায়ংকালে তথা সন্ধ্যায় এই বন্দনা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। কাল ১৭ই অক্টোবর ২০২৬ইং, ১লা কার্তিক ১৪৩৩ বাংলা, শনিবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে এ বছরের শারদীয় দুর্গোৎসব।
আরও পড়ুন: ‘নতুন জীবনের’ খোঁজে বাড়ি থেকে পালায় চার স্কুলছাত্রী, উদ্ধার হবিগঞ্জে
দেবী দুর্গা এবার ঘটে চড়ে, মর্ত্যে আসছে দেবী দুর্গা আর শুভ বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে নৌকায় চড়ে, বিদায় (গমন) করবে—দেবী দুর্গা মর্ত্য থেকে শুভ বিদায়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে গেছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই সর্ববৃহৎ শারদীয় দুর্গাপূজার মহাউৎসব। এই সর্ববৃহৎ ধর্মীয় মহাউৎসবটিকে আরও সাফল্যমণ্ডিত, সুন্দর, সুষ্ঠু ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব পালনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তৃপক্ষরা কঠোর থেকে কঠোরভাবে দায়িত্ব-কর্তব্য পালনের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তাই শুচিশুভ্র শেফালী, শিউলী, পদ্ম ও কাশফুলের সুবাসে চারদিক যখন আনন্দ-হিল্লোলে মাতোয়ারা, প্রকৃতির আকাশে খণ্ড খণ্ড সাদা মেঘের ভেলা পার্থিব জগৎকে যখনই আনন্দময় করে তুলছে, তখনই দুর্গতিনাশিনী আনন্দময়ী মা দুর্গার মর্ত্যে আগমন ঢাকের তালে তালে মহালয়ার মধ্য দিয়ে। “যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা” মন্ত্রে দেবীর আগমনী বার্তা। শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আসন্ন ১৬ই অক্টোবর ২০২৬ইং, শুক্রবার মহাষষ্ঠী হতে ৩১শে আশ্বিন ১৪৩৩ বাংলা, ১৭ই অক্টোবর ২০২৬ইং শনিবার মহাসপ্তমী, ১৮ই অক্টোবর ২০২৬ইং রবিবার মহাষ্টমী ও কুমারীপূজা এবং ১৯ই অক্টোবর ২০২৫ইং সোমবার মহানবমী, ২০শে অক্টোবর ২০২৫ইং মঙ্গলবার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ০৫ দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ কামনায় সকলে শ্রীশ্রী দুর্গামাতার আরাধনা শুরু করেছে। তাই আসুন সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে মা আমাদের মাঝে যে কয়টা দিন আছে, সে কয়টা দিন মায়ের সাথে জীবনের আনন্দ লুটে নিয়ে মা'র আলতারাঙা চরণে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে জীবনকে সুন্দর, সার্থক ও কুসুমিত করে তুলি। সেই সাথে দেশমাতৃকা ও বিশ্বের দুর্গতিনাশহেতু মুক্তিকল্পে মায়ের রাঙা চরণে জানাই প্রার্থনা।
এই বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন এই মহোৎসব দুর্গাপূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভক্তবৃন্দরা অংশগ্রহণ করছেন। সারা দেশের ন্যায় উত্তরবঙ্গের রাজধানী নামে খ্যাত বলে পরিচিত বগুড়া শহরেও ব্যাপক প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গাপূজার মহাউৎসব। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই সর্ববৃহৎ দুর্গাপূজা উৎসবকে ঘিরে সনাতন সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে দেবী দুর্গার বইছে আনন্দের আগমন শুরু হয়ে গেছে। শুভ মহাবিজয়া দশমী বিহিত পূজান্তে দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই সর্ববৃহৎ শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। এবার শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গের রাজধানী নামে খ্যাত বগুড়া জেলাতেই ৭৩১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উৎসব পালিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) মির্জা সায়েম মাহমুদ জানান যে, এবার পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত ছাড়াও প্রতিটি পূজামণ্ডপে পুলিশি টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কেউ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে কঠোরভাবে দমন করা হবে। বিপুলসংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও আনসার বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়াও থাকবে গোয়েন্দা নজরদারি। নিরাপত্তার জন্য মণ্ডপে মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাসদস্যরাও টহল দেবেন বলে জানান তিনি।





