চট্টগ্রাম সিটির পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন মেয়র শাহাদাত
আদালতের রায়ে মেয়রের দায়িত্ব পাওয়া বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেনকে এবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার (২৫ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব জুয়েল রানা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ৪ অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শাহাদাত হোসেন প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য বিধি অনুযায়ী মাসিক সম্মানী ও অন্যান্য ভাতা পাবেন তিনি। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
আরও পড়ুন: ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে সেন্ট মার্টিন
এর আগে গত মার্চেও শাহাদাত হোসেনকে পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব তৈরি করেছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ। তবে তখন এ বিষয়ে আদেশ জারি হয়নি। নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং মেয়র হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্নের মধ্যে এবার তাঁকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলো।
স্থানীয় সরকার বিভাগের নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালে নির্বাচিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিষদের প্রথম সভা হয়েছিল ২৩ ফেব্রুয়ারি। সে হিসাবে পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ গত ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে। তবে শাহাদাত হোসেন দাবি করেছিলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তার মেয়াদ রয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের নথিতে বলা হয়, আদালত তাকে মেয়র ঘোষণা করলেও মেয়াদের বিষয়ে আলাদা কোনো নির্দেশনা দেননি।
আরও পড়ুন: বন্দর উপজেলায় উদ্বোধনের আগেই ১৬ লাখ টাকার শৌচাগার ভাঙার অভিযোগ
এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছিল স্থানীয় সরকার বিভাগ।
২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফলাফলে রেজাউল করিম ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট এবং শাহাদাত হোসেন ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট পান।
নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল বাতিল চেয়ে ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন শাহাদাত। মামলায় তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নয়জনকে বিবাদী করা হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই বছরের ১৯ আগস্ট রেজাউল করিম চৌধুরীকে মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করা হয়। পরে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলামকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ১ অক্টোবর চট্টগ্রামের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ খাইরুল আমীন শাহাদাতের করা মামলার রায় দেন। রায়ে রেজাউল করিম চৌধুরীকে নির্বাচিত ঘোষণার সিদ্ধান্ত বাতিল করে শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারির নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের নির্দেশে ওই বছরের ৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে। পরে ৩ নভেম্বর সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে মেয়র হিসেবে শপথ নেন তিনি। নির্বাচনের প্রায় তিন বছর নয় মাস পর মেয়রের দায়িত্ব নেওয়া শাহাদাত এবার সরকারের নিয়োগে একই সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব পেলেন।





