একজন শরিফ ওসমান হাদি: আজ লক্ষ হাদিতে রূপান্তর

Any Akter
এম এফ ইসলাম মিলন, ব্যবসায়ী ও কলামিস্ট
প্রকাশিত: ৪:২০ অপরাহ্ন, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৭:২১ অপরাহ্ন, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি যখন গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তখন সারা বাংলাদেশ কেঁপে উঠেছিল। এই কাঁপুনি শুধু একটি শরীরের আহত হওয়ার প্রতিক্রিয়া নয়; এটি একটি সময়ের, একটি বিবেকের, একটি অবদমিত দীর্ঘশ্বাসের বিস্ফোরণ। ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে- যখন কোনো ব্যক্তির ওপর অন্যায় আঘাত আসে, তখন সে ব্যক্তি আর একা থাকে না; সে রূপ নেয় একটি প্রতীকে।

একদিন আবু সাঈদ বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে একটি জগদ্দল পাথর সরিয়ে দিয়েছিল। সেই পাথর ছিল ভয়, নিপীড়ন আর নীরবতার। আজ হাদি সেই পথেই হাঁটছে। গুলিবিদ্ধ হয়েও সে হারিয়ে যায়নি; বরং আশ্রয় নিয়েছে লক্ষ মানুষের অন্তরে। কারণ অন্যায়ের সামনে দাঁড়ানো মানুষদের শরীর ক্ষতবিক্ষত করা যায়, কিন্তু তাদের অর্থ মুছে ফেলা যায় না।

আরও পড়ুন: নির্মল সেন: এক নির্মোহ বিপ্লবীর মহাকাব্য ও গণমানুষের দণ্ডায়মান বিবেক

রাষ্ট্রশক্তি কিংবা সন্ত্রাস- যে নামেই আসুক না কেন- গুলি দিয়ে কোনো ভাবনাকে হত্যা করা যায় না। ইতিহাসে যাদের ওপর গুলি চলেছে, তারাই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে গণমানুষের ভাষা। আবু সাঈদ, হাদী- এরা ব্যক্তি নয়, এরা প্রক্রিয়া। এরা সেই চিরন্তন প্রশ্নের নাম, যা ক্ষমতার কাছে বারবার ফিরে আসে: কেন মানুষ আর ভয় পাচ্ছে না?

গুলির রাজনীতি আসলে দুর্বলতার স্বীকারোক্তি। যুক্তির জায়গায় যখন শক্তি ব্যবহৃত হয়, তখন বোঝা যায় প্রশ্নের জবাব দেওয়ার ক্ষমতা শেষ। কিন্তু সমাজ কখনো শূন্য থাকে না- একটি হাদিকে আঘাত করলে সেখানে জন্ম নেয় আরও হাজার হাদি।

আরও পড়ুন: মানবসম্পদের অপচয়-প্রাতিষ্ঠানিক অক্ষমতা

আজকের বাংলাদেশে এই সত্যটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: দমন করে স্থিতি আসে না, ন্যায় ছাড়া শান্তি হয় না। যারা মনে করে গুলি দিয়ে প্রতিবাদ থামানো যাবে, তারা ইতিহাসের ভুল দিকেই দাঁড়িয়ে আছে। কারণ মানুষ মরতে পারে, কিন্তু মানুষের আকাঙ্ক্ষা- সম্মান, ন্যায়, নিরাপত্তা- সেগুলো অমর।

হাদি তাই এখন আর একজন নয়। হাদি এখন লক্ষ। আর লক্ষ হাদির সামনে কোনো গুলিই শেষ কথা হতে পারে না।

লেখক: এম এফ ইসলাম মিলন, ব্যবসায়ী ও কলামিস্ট।