অভিযুক্ত মঈন পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন: র‍্যাব ডিজি

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:১৮ অপরাহ্ন, ১৩ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২:২৫ অপরাহ্ন, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঞ্চল্যকর চাঁদাবাজির ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মঈন উদ্দিন পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আহসান হাবীব পলাশ।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে রমনা পার্কে বাংলা নববর্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন: বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারে প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান সেনাবাহিনীর

র‍্যাব ডিজি বলেন, চাঁদা না দেওয়ায় মঈন উদ্দিন ও তার সহযোগীরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে হুমকি দেন এবং সেখানে আতঙ্কজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে র‍্যাব অভিযান চালিয়ে মূলহোতা মঈনসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মঈন উদ্দিন, সুমন, লিটন, মো. ফালান মিয়া, মো. রুবেল, মো. স্বপন কাজী এবং মো. শাওন হোসেন।

আরও পড়ুন: সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান আইজিপির

র‍্যাব জানায়, গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে মঈন উদ্দিন একদল লোক নিয়ে ডা. কামরুল ইসলামের হাসপাতালে প্রবেশ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, যুবদলের নাম ব্যবহার করে তিনি হাসপাতালের কর্মকর্তাদের হুমকি দিচ্ছেন এবং পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।

উল্লেখ্য, ডা. কামরুল ইসলাম একজন খ্যাতনামা চিকিৎসক, যিনি বিনা পারিশ্রমিকে ২ হাজারের বেশি মানুষের কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন এবং ২০২২ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হয়েছেন। তার প্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, অপরাধীদের কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয়ই তাদের রক্ষা করতে পারবে না। জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

সিকেডি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করে জানিয়েছে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে মঈন উদ্দিন বিভিন্নভাবে ডা. কামরুল ইসলামকে হয়রানি করে আসছিলেন। জোরপূর্বক পণ্য সরবরাহের প্রস্তাব এবং চাঁদা না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল।

র‍্যাবের অভিযানে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর হাসপাতাল এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।