প্রবল বর্ষণে সুনামগঞ্জে সবজির ব্যাপক ক্ষতি, দিশেহারা কৃষক

Sadek Ali
মো. আব্দুল শহীদ, সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ২:৫৭ অপরাহ্ন, ২২ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ২:৫৯ অপরাহ্ন, ২২ অগাস্ট ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

প্রবল বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত ও সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার জিনারপুর,মাঝেরটেক, চালবন, বাগবেড়, চিনাকান্দি,মথুর কান্দি,গুচ্ছ গ্রাম,রাজাপাড়া,পলাশ বাজার,নতুনপাড়া,গোবিন্দনগর,সদর উপজেলার সৈয়দপুর,লালপুর,অক্ষয়নগর,হুরারকান্দা,সাহেবনগর,রহমতপুর,বেরীগাও,বেলাবর হাটি,কৃঞ্চনগর,মীরেরচর,মঙ্গলকাটা,নারায়ণতলা,ডলুরা,কাইয়েরগাও সহ আশপাশের এলাকার সবজি চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অধিকাংশ সবজির ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। সবজি ক্ষেত বাঁচাতে পানি সরাতে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও মাঠে কাজ করেন চাষিরা। ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না পারার আশঙ্কায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অতি বর্ষণে রাস্তা-ঘাট ভেঙ্গে ও মাছের ঘের ভেসে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষ বৃষ্টির মধ্যে বাইরে বের হতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছে। 

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা,জাহাঙ্গীরনগর,গৌরারং,রঙ্গারচর ইউনিয়নসহ  আশপাশের ২০হেক্টর জমিতে লাউ, ১৫ হেক্টর জমিতে বরবটি, ২০হেক্টর জমিতে শসা, ১০হেক্টর জমিতে ঢেঁড়ষ, ২৫ হেক্টর জমিতে চিচিঙ্গা, ১২ হেক্টর জমিতে জিঙা, ২০হেক্টর জমিতে চালকুমড়া ৮ হেক্টর জমিতে মিষ্টিকুমড়া ৯ হেক্টর জমিতে কড়লা, ২০ হেক্টর জমিতে পুঁইশাক, ১৪৫হেক্টর জমিতে ধুন্দল, ২১ হেক্টর জমিতে ডাটা, ৫হেক্টর জমিতে কলমি শাক, ১০হেক্টর জমিতে বেগুন চাষাবাদ করা হয়েছে। অতি বর্ষণে খরিপ-২ মৌসুমের বিপুল পরিমাণ জমি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তাতে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন। 

আরও পড়ুন: দুমকিতে রোপা আমনের ব্যস্ততা, লক্ষ্যমাত্রা ৬,৬৪১ হেক্টর

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর-সদর ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার অর্ধশতাধিক গ্রামের কৃষকরা সবজি চাষাবাদ করেছেন। এখানকার জমির তিন ভাগের দুই ভাগই সবজি চাষ হয়। মাঠ জুড়ে সবজি ক্ষেত। অতি বর্ষণে সবজি গাছের চারা হলুদ বর্ণ হয়ে গেছে। কোন কোন গাছের পাতা মরে গেছে। গাছের চেহারা মলিন। ফুল নেই। ফলনও নেই। তবুও চাষিরা মাঠে কাজ করছেন। তারা বলছেন, এবারের অতি বর্ষণে সবজি চাষিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। 

বর্তমানে খরিপ-২ মৌসুমের সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছিলেন কৃষকরা। এখানে মাঠের পর মাঠ জুড়ে লাউ, বরবটি, শসা, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা, ঝিঙা, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, করলা, পুঁইশাক, ধুন্দল, ডাটাসহ তারা বিভিন্ন সবজি চাষ করেছিলেন। আষাঢ়ের শুরুতেই এবার ভারি বর্ষণে কৃষকরা অনেকটা কষ্ট করেই সবজি চাষে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ কয়েকদিনের ভারি বর্ষণে অধিকাংশ সবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে। 

আরও পড়ুন: অতিবৃষ্টিতে চুয়াডাঙ্গায় ৮৭২ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর-সুনামগঞ্জ সদর ‘সবজি জোন’ খ্যাত এ অঞ্চলের সবজির মাঠ ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এবার বর্ষা মৌসুম শুরুর প্রথম দিন থেকেই সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। কিছু দিন বিরতি দিয়ে আষাঢ় মাসজুড়েই বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে শেষের কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত ছিল প্রবল।

বৃষ্টির মধ্যে ঝড়ো হাওয়া সবজি চাষিদের জন্য অনেকটা মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো। বাতাসের তীব্রতার কারণে বিভিন্ন সবজির মাচা ভেঙে যেতে শুরু করেছে। যা কৃষকদের জন্য খুবই ক্ষতির কারণ। এবছর সবজির জন্য বাজারে হাহাকার দেখা দেবে। বাজারে সবজির দাম দ্বিগুণ দিয়েও মিলবেনা।

জিনারপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আলী বলেন, প্রচুর বৃষ্টির কারণে বরবটি গাছের ফুল সব ঝরে যাচ্ছে, যার কারণে কোন ফলন নেই। গাছে ফুলও বের হচ্ছে না। তাতে তিনি চরম ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। চালবন গ্রামের কৃষক রুহুল আমিন বলেন, আরো বৃষ্টি হলে সবজি গাছের চারা বাঁচানো সম্ভব হবে না। তিনি ধারদেনা করে জমি লিজ নিয়ে এবার চিচিঙ্গা ও জিঙার চাষ করেছিলেন। এবারের অতি বর্ষণে তার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। 

সৈয়দপুর গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টিতে তাদের বেগুন ক্ষেতের সব চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।

সাহেবনগর গ্রামের কৃষক মিঠু মিয়া বলেন, এই বৃষ্টির পর রোদে সবজি গাছের গোড়ায় জমে থাকা পানি গরম হয়ে সব সবজি গাছের পচন দেখা দিয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যে হয়তো গাছগুলো মরে যাবে।  

বেরীগাও গ্রামের মাছ চাষি ইমান আলী বলেন, যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে তাতে এলাকার সকল ঘের ভেসে একাকার হয়ে যাবে। এতে মাছ চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হবে। 

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসার রাকিবুল আলম  বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হলে সবসময়ই কৃষি মন্ত্রণালয় তাদের প্রণোদনা দিয়ে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চেষ্টা করে। প্রত্যেক বছরের ন্যায় ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষি মন্ত্রণালয় এবারো কৃষকদের পাশে থাকবেন বলে আমি আশা করছি।