বিচারের দাবি এনসিপির
শাহ আলী মাজারে হামলা: জামায়াতের ৩ কর্মী গ্রেপ্তার
রাজধানীর মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী শাহ আলী মাজারে জিয়ারতকারী ও ভক্তদের ওপর হামলার ঘটনায় নয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাত ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার রাতে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে শেখ মো. সাজ্জাদুল হক রাসেল (৩৮), মো. আজম (৪০) ও মো. আরমান দেওয়ানকে (২৯) আটক করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, কয়েকদিনজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে জানা গেছে। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হামলায় আহত রেশমি বেগম বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলাটি করেন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি মাজারে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ওরস উপলক্ষে মাজারে বিপুল ভক্তসমাগমের মধ্যে একদল হামলাকারী লাঠিসোঁটা নিয়ে মাজারে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
আরও পড়ুন: ৩৪ লাখ জাল টাকাসহ চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা মাজারের বিভিন্ন ধর্মীয় সামগ্রী নষ্ট করে এবং বাধা দিতে গেলে রেশমি বেগমকে মারধর ও শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয়। হামলায় মাজারের বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের কাছ থেকে অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার দলটির একটি প্রতিনিধিদল শাহ আলী মাজার পরিদর্শন করে আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন মাজার ও সুফি স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছরে মাজারকেন্দ্রিক সহিংসতার ঘটনাগুলো তদন্তে একটি স্বাধীন ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠন করা প্রয়োজন।





