নাগরিক সেবায় অবহেলায় চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর ব্যবস্থা: ডিএসসিসি প্রশাসক

Sanchoy Biswas
বাংলাবাজার রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫:৩০ অপরাহ্ন, ০৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ৯:১২ অপরাহ্ন, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে গণশুনানির আয়োজন করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)। এ সময় নাগরিক সেবায় অবহেলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করলে প্রয়োজন হলে চাকরিচ্যুতিসহ কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার (৮ জুন) বাসাবোর বৌদ্ধ মন্দির অডিটোরিয়ামে ডিএসসিসির অঞ্চল-২ ও অঞ্চল-৫-এর আওতাধীন এলাকার নাগরিকদের অংশগ্রহণে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: এবার দুর্গাপূজায় মিলছে টানা ছুটি, কারা কতদিন পাবেন?

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।

গণশুনানিতে অঞ্চল-২-এর খিলগাঁও, বাসাবো, মুগদাপাড়া, কমলাপুর, শাহজাহানপুর ও মতিঝিল এবং অঞ্চল-৫-এর যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, স্বামীবাগ, গোপীবাগ, নারিন্দা, দয়াগঞ্জ, টিকাটুলী, ধলপুর, মান্ডা, মুগদা ও বাসাবোর আংশিক এলাকার বাসিন্দারা অংশ নেন। এ সময় নাগরিকরা জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা, ট্রেড লাইসেন্স এবং হোল্ডিং ট্যাক্সসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যা ও মতামত তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন: পাইকপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় ৫ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ

প্রশ্নোত্তর পর্বে ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নাগরিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

গণশুনানিতে প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব হলেও এ ক্ষেত্রে জনগণের অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্জ্য অপসারণ, মশক নিয়ন্ত্রণ, সড়কবাতি স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়নে প্রশাসন কাজ করছে। তবে একটি বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদেরও সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, “সিটি কর্পোরেশন ও জনগণকে দায়িত্ব ভাগাভাগি করে কাজ করতে হবে। নাগরিক সচেতনতা ছাড়া টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।”

জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বৃষ্টির সময় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে থাকার সমস্যা নিরসনে চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

সেবা প্রদানে অবহেলার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রশাসক বলেন, “জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন, মশক নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্ট্রিট লাইটের মতো মৌলিক সেবায় অবহেলা বরদাশত করা হবে না। দায়িত্বে গাফিলতি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, প্রয়োজনে চাকরিচ্যুতিও করা হবে।”

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার সম্ভাব্য মৌসুম সামনে রেখে তিনি মশক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং নাগরিকদের নিজ নিজ বাড়ি, আঙিনা, ফুলের টব ও ফ্রিজের নিচের অংশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, জনগণের অর্থে পরিচালিত রাষ্ট্রে উন্নয়ন কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। জনগণের জানার অধিকার রয়েছে কোথায় এবং কীভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি জানান, ঢাকা-৯ আসনে ইতোমধ্যে সড়ক উন্নয়ন, আরসিসি ঢালাই, ড্রেনেজ ও পাইপলাইন স্থাপনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং আরও বেশ কিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে প্রশাসন ও নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, ধানমন্ডির পর বাসাবোতে অনুষ্ঠিত এই গণশুনানি ছিল ডিএসসিসির দ্বিতীয় আয়োজন। পর্যায়ক্রমে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১০টি অঞ্চলে এ ধরনের গণশুনানি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।