শম্পা গোস্বামীকে অনলাইন হয়রানি ও চাঁদা আদায়ের চেষ্টা, বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থার আল্টিমেটাম

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:১৬ অপরাহ্ন, ১০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১:৩০ অপরাহ্ন, ১০ অক্টোবর ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

শম্পা গোস্বামী ও তার মেয়েরা এবং প্রেরণা সংগঠনের কর্মীদের লক্ষ্য করে দেওয়া হুমকি, চাঁদা আদায়ের চেষ্টা ও অনলাইন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত, পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডারস। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে শম্পা গোস্বামীর ওপর হয়রানি বন্ধ এবং তার ওপর আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। 

বিবৃতিতে ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডারস বলেছে, শম্পা গোস্বামীর ওপর হামলার ধরন গভীর উদ্বেগজনক। এসব হামলায় একজন নারী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে তার পরিচয়কে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে এসব ঘটনা ঘটছে। দেশটিতে হিন্দু সম্প্রদায়, আহমদিয়া মুসলিম এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সদস্যরা এখনো বৈষম্যমূলক আচরণের শিকার হচ্ছেন।

আরও পড়ুন: গুলশান লিংক রোড থেকে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

বিবৃতিতে বলা হয়, মানবাধিকারকর্মীদের অবশ্যই ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের আশঙ্কা ছাড়াই তাদের শান্তিপূর্ণ ও বৈধ কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে। আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও তাদের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডারস উল্লেখ করেছে, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির (আইসিসিপিআর) ১২ অনুচ্ছেদের ২ নম্বর উপধারায় প্রত্যেক ব্যক্তির যেকোনো দেশ, এমনকি নিজের দেশ থেকেও চলে যাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ এই আন্তর্জাতিক চুক্তির একটি পক্ষ।

সংস্থাটির মতে, মানবাধিকারকর্মী এবং তাঁদের নেতৃত্বাধীন সংগঠনগুলোর বৈধ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করা উচিত নয়। বিবৃতিতে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের প্রতি শম্পা গোস্বামীর ওপর আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং তার পরিবারের সদস্যদের ও প্রেরণা সংগঠনের বিরুদ্ধে সব ধরনের হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, শম্পা গোস্বামীর শান্তিপূর্ণ ও বৈধ মানবাধিকার কার্যক্রম সীমিত করা কিংবা এ জন্য তাকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তদন্ত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করা যাবে না।

শম্পা গোস্বামী, তার মেয়েরা এবং প্রেরণার কর্মীদের লক্ষ্য করে দেওয়া হুমকি, চাঁদা আদায়ের চেষ্টা ও অনলাইন হয়রানির ঘটনাগুলোর দ্রুত, পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এসব ঘটনার জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনারও দাবি জানিয়েছে তারা।

ফ্রন্ট লাইন ডিফেন্ডারস আরও বলেছে, শম্পা গোস্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে তাঁর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে তার পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

বিবৃতির শেষাংশে বাংলাদেশের সব মানবাধিকারকর্মীর নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। 

এতে নারী মানবাধিকারকর্মী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকারকর্মীদের বিশেষভাবে উল্লেখ করে বলা হয়, তাদের অবশ্যই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের ভয় এবং বিচারিক ও প্রশাসনিক হয়রানিসহ যেকোনো ধরনের স্বেচ্ছাচারী বিধিনিষেধ ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ও বৈধ মানবাধিকার কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে।

বিবৃতি দেখতে এখানে ক্লিক করুন