একদিনেই দাম কমলো পেঁয়াজের

Any Akter
বাংলাবাজার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১:০৭ অপরাহ্ন, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১:০৭ অপরাহ্ন, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

সরকার সীমিত পরিসরে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর মাত্র এক দিনের ব্যবধানে দেশে পেঁয়াজের কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এতে অস্থির হয়ে পড়া বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি অব্যাহত থাকলে এবং বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমবে।

রোববার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায়। আগের দিন দাম ছিল ১৫০ টাকা বা তার কাছাকাছি। দিনাজপুরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকার আশপাশে এবং চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। একদিন আগেও এসব এলাকায় দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা।

আরও পড়ুন: বাজেট ইতিবাচক; ধীরে হলেও চলতি অর্থবছরে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে: এডিবি’র পূর্বাভাস

গত মাসে হঠাৎ পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। কয়েক দিনের ব্যবধানে দাম ৪০ টাকার মতো বেড়ে ১১৫–১২০ টাকায় পৌঁছে যায়। পরে আমদানির ঘোষণা এলে কিছুটা কমলেও সরকারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পর আবার ১৫০ টাকায় ওঠে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে রোববার থেকে সীমিত আকারে আমদানির অনুমতি কার্যকর করা হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিদিন ৫০টি আইপি (আমদানি অনুমতি) ইস্যু করা হবে, যেখানে প্রতিটি আইপিতে সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমোদন থাকবে। ১ আগস্ট থেকে যেসব ব্যবসায়ী আবেদন করেছিলেন তারাই পুনরায় আবেদন করতে পারবেন।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি, তবে বাড়তি চাপ সীমিত

দিনাজপুরের হাকিমপুর প্রতিনিধি জানান, তিন মাস বন্ধ থাকার পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হয়েছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নাসিক জাতের পেঁয়াজবোঝাই তিনটি ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করে। আমদানির খবরেই স্থানীয় বাজারে এক লাফে কেজিতে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কমেছে দাম।

রনি এন্টারপ্রাইজের মালিক আব্দুল মালেক বাবু বলেন, এখনও কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়নি। প্রক্রিয়া শেষ হলেই বিক্রি শুরু হবে। হিলি কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা এ আর জামান বাঁধন জানান, ব্যবসায়ীরা শুল্কায়নের জন্য আবেদন না করায় প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

স্থলবন্দর আমদানিকারক গ্রুপের সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত শতাধিক ব্যবসায়ী আমদানি অনুমতি চাইলেও কৃষকের স্বার্থে তা বন্ধ রাখা হয়। ফলে বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। রোববার খুচরা ব্যবসায়ী মোকারম হোসেন জানান, শনিবার যে পেঁয়াজ ১৩০ টাকায় বিক্রি করেছি, আজ তা ১০০ টাকায় দিচ্ছি। মুড়িকাটা পেঁয়াজ ১১০ টাকা থেকে নেমে ৮৫ টাকায়।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, দেশের বৃহত্তম পাইকারি ভোগ্যপণ্য বাজার খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের পাইকারি দাম একদিনেই ৩০–৪০ টাকা কমেছে। শনিবার যেখানে পাইকারিতে কেজি ১১০–১২০ টাকা ছিল, রোববার তা বিক্রি হয়েছে ৮০–৯০ টাকায়। খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

হামিদুল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, আমদানির অনুমতির খবরে বাজার স্থির হতে শুরু করেছে। সরবরাহ বেড়েছে। সপ্তাহখানেকের মধ্যে প্রচুর পরিমাণ মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে এলে দাম আরও কমবে।