ঢাবির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক রাজিয়া সুলতানার ইন্তেকাল, উপাচার্যের শোক

Any Akter
ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩:৪৯ অপরাহ্ন, ২০ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ৫:৪১ অপরাহ্ন, ২০ এপ্রিল ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক রাজিয়া সুলতানার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) কানাডায় অধ্যাপক রাজিয়া সুলতানা ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

আরও পড়ুন: এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু ২ জুলাই

এক শোকবার্তায় উপাচার্য বলেন, অধ্যাপক রাজিয়া সুলতানা ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান শিক্ষক, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক। শিক্ষা ও গবেষণায় তাঁর অবদান এবং সাহিত্যকর্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে থাকবে। তিনি তাঁর কর্মের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

উপাচার্য মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

আরও পড়ুন: ঢাবিতে ‘ছোটদের জন্য দর্শন’ শীর্ষক দিনব্যাপী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

১৯৩৭ সালের ২৫ জুলাই জন্মগ্রহণ করা রাজিয়া সুলতানা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৮ সালে বাংলায় স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৫৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৫ সালে মধ্যযুগের কবি আবদুল হাকিমের জীবন ও কর্ম নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে প্রাচীন ও মধ্যযুগের পাণ্ডুলিপি ও সাহিত্য বিষয়ে তিনি ছিলেন পথিকৃৎ গবেষক। একই বছর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এর আগে তিনি বিভিন্ন সরকারি কলেজ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ১৯৯২ সালে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।

অধ্যাপক রাজিয়া সুলতানার উল্লেখযোগ্য সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে গুলে বকাওলী (১৯৭০), আবদুল হাকিম রচনাবলী (১৯৮৯)। এছাড়া তিনি মোহাম্মদ আবদুল কাইউমের সঙ্গে যৌথভাবে সম্পাদনা করেন আলাওল রচনাবলী (২০০৭) এবং প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা ভাষার অভিধান (২০০৭)। তাঁর অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে নজরুল-অন্বেষা (১৯৬৯), কথাশিল্পী নজরুল (১৯৭৫), আবদুল হাকিম: কবি ও কাব্য (১৯৮৭) এবং সাহিত্য-বীক্ষণ (১৯৮৮)।

সাহিত্য ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘সাহিত্যিক মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ প্রবন্ধসাহিত্য পুরস্কার’ (২০২২) এবং ‘নজরুল পুরস্কার’ (২০২৪)সহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন।