কমিটি ঘিরে অন্তঃকোন্দল, ষড়যন্ত্রের পাল্টা অভিযোগ সাংগঠনিক সম্পাদকের বিরুদ্ধে
দোকানীকে মারধর ও ভাঙচুর করলেন চবি ছাত্রদল নেতা জালাল
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি দোকানে ভাঙচুর ও দোকানীকে মারধর করছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জালাল সিদ্দিকী। এবং ঘটনাটি জানাজানির পর পরই দোকান মালিকের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়েছেন অভিযুক্ত ঐ ছাত্রদল নেতা। তবে এক ভিডিওতে ক্ষমা চাওয়ার সময় ঘটনাটির পিছনে কমিটি কেন্দ্রিক ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে তিনি পাল্টা অভিযোগ আনেন শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়ের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির শাখা ছাত্রদলের আসন্ন নতুন কমিটির নেতৃত্ব ঘিরে অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও অন্তঃকোন্দলের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে বলে চলছে সমালোচনা। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে দোকানীকে মারধর ও দোকান ভাঙচুরের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবি উঠেছে।
১৫ এপ্রিল আনুমানিক রাত ৯টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ঝুপড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ছাত্রদল নেতা জালাল সিদ্দিকীর হাতে মারধরের শিকার হওয়া ঐ দোকানীর নাম এইচ এম সুজন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়েরই সাবেক শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন: গণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি: মাসুমের সংগ্রাম জয়ের গল্প
জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ঝুপড়িতে অবস্থিত ঐ দোকানে ছাত্রদল নেতা জালাল সিদ্দিকীর নামে ৩০ টাকা কে বা কারা বাকি খেয়েছে বলে দাবি করেছিলেন দোকানী এইচ এম সুজন।
অভিযোগ উঠেছে, এ বাকির বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় ঐ দোকানিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং তার কাছ থেকে নাকি ভিডিও বক্তব্য চান। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ হন জালাল সিদ্দিকী। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত জালাল সিদ্দিকী ঐ দোকানে ভাঙচুর করেন। এসময় দোকানের ক্যাশ টেবিলেও ভাঙচুর চালানো হয় এবং মারধরে দোকানির মুখেও আঘাত করা হয়।
আরও পড়ুন: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি
এ বিষয়ে দোকানী এইচ এম সুজন এক ভিডিও বক্তব্যে জানান যে, বাকি খাওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় তাকে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন এবং এতে তিনি জালাল সিদ্দিকীর নাম বলেন। পরবর্তীতে জালাল সিদ্দিকী তার ক্যাশ টেবিল ভাঙচুর করেন এবং তার মুখে আঘাত করলে ঠোঁট ফেটে রক্ত বের হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জালাল সিদ্দিকী বলেন, “এটা নাকি তিন চার মাস আগের বাকি ত্রিশ টাকা, তাও ত্রিশ টাকা বাকি। আমার অজ্ঞাত বসত কেউ একজন করছে আরকি, তাও সিনিয়র ভাই জুনিয়র কেউ না। তো হলো যে, এটা জানার পরে ঘটনাটা সমাধান হওয়ার পরও, গতকাল এটা পেমেন্ট করে গেছে সিনিয়র ছাত্রদলের একজন।” তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনা জানার পর সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বার বার এসে উনাকে (এইচ এম সুজন) উস্কিয়ে উস্কিয়ে উনার কাছ থেকে আমার কাছে ত্রিশ টাকা বাকি পায় এ ধরনের স্টেটমেন্ট নিছে।”
জালাল সিদ্দিকীর পাল্টা অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, “আমরা কলার ঝুঁপড়িতে নাস্তা করতে যাই। তো নাস্তা করতে যাওয়ার পর দোকানদার (এইচ এম সুজন) আমাকে দেখে বলে যে, ভাই আপনাদের নেতাকর্মীরা খাবার খেয়ে টাকা দেয় না। তা আমি বল্লাম যে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তো ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে এটা হওয়া অসম্ভব। এ ধরনের ঘটনা ঘটে নাই। তবুও যদি কেউ করে থাকে সেটা আমাদের বলেন তার যথাযথ ব্যবস্থা হবে। এতটুকুই, তারপর সে বলছে কে করেছে, তিনিই বলছে ভাই জালাল হচ্ছে আমার দেনা করে টাকা দিবে বলে আর দেয় নাই।” তিনি আরও বলেন, “জালাল কার মাধ্যমে শুনে যে, দোকানদার আমাদের এটা বলছে যে, সে কিছু টাকা পায় মানে বাকি টাকার কথা আমাদের কাছে বিচার দিছে। এটা শোনার পর জালাল নাকি গিয়ে সেখানে ক্ষিপ্ত হয়ে ওর সাথে জালাল রাফ বিহেভ করে।” তিনি আরও বলেন, “যদি দোকানদার কোন ব্যবস্থা চায় আমাদের দলের পক্ষ থেকে তাহলে আমাদের প্রেসিডেন্ট সেক্রেটারি আছে আমরা আছি, এর অবশ্যই বিচার হবে। কারন, ওর (জালাল সিদ্দিকী) বিরুদ্ধে প্রথমেই একটা চাওয়া পাওয়ার অভিযোগ তুলছে। যদিও এমাউন্টটা খুব ছোট। তারপর আবার অভিযোগ তুলছে কেন সেটা নিয়ে আবার ওর (এইচ এম সুজন) উপর গিয়ে হাত তুলা এটা খুব দুঃখজনক।”





