রাজনীতিনিষিদ্ধ গকসু

‎ছাত্রদলে যোগ দেওয়া ভিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চান ’শিবির সমর্থিত জিএস-এজিএস'

Sanchoy Biswas
মবিনুল ইসলাম রাশা, গণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৯:৫৬ অপরাহ্ন, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ৪:৩০ পূর্বাহ্ন, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ছবি (১)- বাঁয়ে গকসুর এজিএস সামিউল হাসান, সর্বডানে জিএস রায়হান খান ছবি (২)- তারেক রহমানের সঙ্গে গকসুর ভিপি ইয়াসিন মৃদুল দেওয়ান
ছবি (১)- বাঁয়ে গকসুর এজিএস সামিউল হাসান, সর্বডানে জিএস রায়হান খান ছবি (২)- তারেক রহমানের সঙ্গে গকসুর ভিপি ইয়াসিন মৃদুল দেওয়ান

‎সাত বছর পর অনুষ্ঠিত গকসু নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরই ফেসবুক পোস্টে জিএস-এজিএসসহ চারজনকে নিজেদের প্যানেলের উল্লেখ করে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন শিবিরের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। তাদের শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতারা। গেল পাঁচ মাসের মেয়াদে শিবিরের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে গকসুর জিএস-এজিএসকে। গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) গকসুর ভিপি ছাত্রদলে যোগ দেন। এ ঘোষণা দেওয়ার এক দিন পর এবার ভিপির ছাত্রদলে যোগ দেওয়াকে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা উল্লেখ করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানালেন সেই শিবির সমর্থিত প্যানেলের বিজয়ী গকসুর জিএস-এজিএস।

‎গত শুক্রবার রাতে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর দলটির অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) মো. ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান। রাতে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এক ফেসবুক পোস্টে এই তথ্য প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: কওমি মাদ্রাসার স্বকীয়তায় হস্তক্ষেপ জনগণ মেনে নেবে না: কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদ

‎এর পরপরই গকসুর একাধিক নেতৃবৃন্দ বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন। তবে এক দিন পর এই বিষয়ে বিবৃতি দিয়ে ভিপির বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে ভিসির প্রতি দাবি জানান জিএস ও এজিএস। 

‎শনিবার রাতে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মো. রায়হান খান ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সামিউল হাসান শোভন সাক্ষরিত গকসুর প্যাডে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

আরও পড়ুন: পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ঢাবি ভিসি

‎ওই বিবৃতিতে তারা লিখেছেন, গণ বিশ্ববিদ্যালয় একটি অরাজনৈতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হচ্ছে যে, যে কোনো শিক্ষার্থী তার নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ ক্যাম্পাসের বাইরে ব্যক্তিগতভাবে চর্চা করতে পারবেন; তবে ক্যাম্পাসের ভিতরে কোনো ধরনের দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম গ্রহণযোগ্য নয়।‎

‎এতে তারা আরও লিখেছেন, গত শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ভেরিফায়েড অফিসিয়াল পেজ থেকে একটি সংবাদ প্রচারিত হয়, যেখানে দাবি করা হয় যে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি (ভিপি) ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান ছাত্রদলে যোগদান করেছেন। উক্ত বিষয়টি তিনি নিজেও প্রকাশ্যে স্পষ্ট করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও শিক্ষার্থীরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে চেয়েছেন-এই সিদ্ধান্তটি ছাত্র সংসদের কোনো মতামত বা অনুমোদনের ভিত্তিতে গৃহীত কি না।

‎’এ বিষয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের বক্তব্য সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন। ভিপি ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ানের কোনো রাজনৈতিক দলে যোগদান করা তার ব্যক্তিগত ও সাংবিধানিক অধিকার। তবে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তিনি এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিয়ম বহির্ভূত কার্যক্রমে লিপ্ত হয়েছেন। এ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে তিনি ছাত্র সংসদের সঙ্গে কোনো প্রকার আলোচনা বা পরামর্শ করেননি। অতএব, এই সিদ্ধান্তের দায়ভার কোনোভাবেই গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বহন করবে না’, যোগ করেন তারা।

‎বিবৃতিতে তারা আরও লিখেছেন, ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে দৃঢ়ভাবে জানানো হচ্ছে যে, কোনো ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা দলীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে কলঙ্কিত করতে পারে না।

‎‎ওই বিবৃতিতে তারা দাবি জানিয়ে লিখেন, এ বিষয়ে গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সভাপতি এবং মাননীয় উপাচার্য মহোদয় প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।

‎ছাত্রদলে যোগ দেওয়াকে রাজনৈতিক বলা জিএস-এজিএসের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা

‎‎২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর গকসু নির্বাচনে কেন্দ্রীয় ১১টি পদ ও অনুষদের ১০টি পদে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এতে জিএস পদে মো. রায়হান খান ও এজিএস পদে সামিউল হাসান শোভন নির্বাচিত হন। নির্বাচনী প্রচারসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে এই দুইজনসহ আরও দুইজনকে একইসঙ্গে যৌথভাবে দেখা যায়। এমনকি ভোটের দিনও পানির বোতলের বিতরণ করে এর সঙ্গে তাদের ব্যালট নম্বরসহ প্রচারপত্র বিলি করতে দেখা যায়। 

‎‎নির্বাচনকালে কোনো প্যানেল ঘোষণা না দিলেও গকসু নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই দেখা যায়, ইসলামি ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সাদ্দাম ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেন, গকসুর জিএস, এজিএস শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত।

‎‎পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ব্যাংক কলোনি এলাকায় মডেল মসজিদের সামনে ঢাকা জেলা উত্তর ইসলামি ছাত্র শিবিরের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায় গকসুর জিএস, এজিএসসহ ভোটে অংশ নেওয়া আরও এক গবি শিক্ষার্থীকে।

‎‎এছাড়া সম্প্রতি সম্প্রতি ইসলামি ছাত্র শিবিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নিজের প্রোফাইলে ইসলামি ছাত্র শিবিরের ফটোকার্ড যুক্ত করে প্রোফাইল ছবি দেন এজিএস সামিউল হাসান শোভন।

‎‎যদিও বরাবরই তারা নিজেদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন।

‎রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় পদ বাতিলের স্পষ্ট নির্দেশ গঠনতন্ত্রে

‎‎গকসুর গঠনতন্ত্রের ১৭.১ (খ) ধারা অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক সংগঠনে যোগ দিলে অথবা ওই সংগঠনের কোনো পদে নির্বাচিত বা মনোনীত হলে তার সদস্যপদ বাতিল হবে। 

‎‎এছাড়া ১১ ধারায় বলা হয়েছে, দলীয় রাজনীতিতে সাথে জড়িত প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছাত্র গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাহী কমিটির যে কোনো পদে নির্বাচনের অযোগ্য হইবেন। আর গঠনতন্ত্রের ১ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, গকসু একটি অরাজনৈতিক ছাত্র সংসদ, যা কোনো দলীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে না।

‎অরাজনৈতিক ক্যাম্পাসে রাজনীতি, সমালোচনা

‎‎গকসুর জিএস, এজিএসের শিবিরের রাজনীতিতে সংশ্লিষ্টতার ঘটনা সামনে আসার পর সেই সময় তাদের সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানিয়েছিলেন অনেকেই।

‎‎জুলাই আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংগঠন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ-পুসাবের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সেই সময় লেখা হয়েছিল, এ ঘটনায় গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতারিত হয়েছেন বলে মনে করেন। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের মাধ্যমে দলীয় রাজনীতি প্রবেশের ফলে তারা শঙ্কিত।

‎‎জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হওয়া আফসানা মিমি বলেন, ‘অরাজনৈতিক একটি বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে রাজনীতি নিষিদ্ধ সেখানে একদম প্রকাশ্যে শিবিরের প্যানেল দিয়ে তারা যদি আসে, আমি একমত নই। আমরা প্রতারিত বোধ করছি। গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, কোনো রাজনৈতিক দল আসতে পারবে না। সম্পৃক্ত থাকলেও সে বহিষ্কার। আমি এই পদে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানাই। যেখানে রাজনীতির সম্পৃক্ততা থাকলে অযোগ্য হবেন, তাহলে তারা কিভাবে এখনও যোগ্য থাকেন। যখন জিএসের ফল ঘোষণা করে, তখনই তারা আল্লাহ আকবার, নারায়ে তাকবির স্লোগান দিতে থাকেন। তারপরে ঘোষণা হলো। গঠনতন্ত্রের ১৭ এর খ ধারায় আছে, রাজনৈতিক সংগঠনে যোগ দিলে বা মনোনীত হলে তার সদস্যপদ সরাসরি বাতিল হবে। তাহলে কিভাবে শিবিরের প্যানেলসহ আসতে পারে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

‎বিভক্ত গকসু

‎‎ভিপি মো. ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ানের ছাত্রদলে যোগ দেওয়ার ঘটনায় গকসুর মধ্যে বিভক্তির বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে। এরমধ্যে জিএস, এজিএস এক পক্ষ হয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। তারা ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে অন্য দিকে ভিপির ছাত্রদলে যোগদানকে স্বাগত জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন কয়েকজন।

‎‎এরমধ্যে গকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফেসবুকে লিখেন, অভিনন্দন মৃদুল দেওয়ান ভাই। আপনার আগামীর পথচলা সুগম হোক।

‎‎তারেক রহমানের সঙ্গে মৃদুল দেওয়ানের একটি ছবি শেয়ার করে গকসুর প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জিন্নাহ আল ফেরদৌস লিখেন, ’আওয়ার গকসু ভিপি উইথ আওয়ার নেক্সট পিএম’।

‎শীর্ষ তিন নেতৃত্বের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় বিতর্ক, গকসু বাতিলের দাবি

‎‎ভিপি, জিএস ও এজিএসের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে তিনজনের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন শিক্ষার্থীরা। এমনকি শিবিরের বিবৃতিকে রাজনৈতিক প্রতারণা বলে উল্লেখ করেন কেউ কেউ।

‎‎গকসুতে ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হওয়া গণ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রাজিব হোসেন বলেন, গণ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি মৃদুল দেওয়ান ছাত্রদলে যোগ দিয়েছে এইট সম্পুর্ণ নিয়ম বহির্ভূত। সে যদি ক্যাম্পাসে এখন রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে এইট সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করা হবে। আর যদি সে ক্যাম্পাসে এমন কোন কিছু করে আমার অবশ্যই প্রতিবাদ জানাবো, ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও আহবান করবো। আর যদি যে ক্যাম্পাসের বাইরে আলাদাভাবে রাজনীতি করে তাহলে সে ব্যাক্তি মৃদুলা হিসেবে করতেই পারে। কারন জাফরুল্লাহ চৌধুরী এই ছাত্র সংসদ প্রতিষ্ঠা করে যাতে ছাত্র সংসদের নেতারা পরবর্তীতে জতীয় রাজনীতে ভূমিকা রাখতে পারে।

‎‎আইন বিভাগের শিক্ষার্থী এবং গকসু নির্বাচনের ভিপি প্রার্থী রাকিব মুসুল্লি বলেন, অরাজনৈতিক গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনৈতিক দলে যুক্ত হয়েছে এবং এই সংসদের আরো অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত যা ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মূলনীতিকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং যা ছাত্র সংসদের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল নথিপত্র থেকে 'অরাজনৈতিক বিশ্ববিদ্যালয়' শব্দটি প্রত্যাহার করা উচিত। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটি নিরীহ শিক্ষার্থীদের সাথে একটি বড় ধরনের প্রতারণা। রাজনীতি মুক্ত ক্যাম্পাস দেখেই এই ক্যাম্পাসে অনেক শিক্ষার্থী আসেন। ফলে আপনারা প্রতারণা বা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে নিরীহ শিক্ষার্থীদের কে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন?"

‎যা বলছেন বিতর্কিত ভিপি-জিএস-এজিএস

‎‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে এজিএস সামিউল হাসান বলে বলেন, গণ বিশ্ববিদ্যালয় একটি অরাজনৈতিক ক্যাম্পাস। আমাদের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসুর) গঠনতন্ত্রে স্পষ্টভাবে ভাবে উল্লেখ করা আছে যে কোনো সদস্য রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনে যোগ দিলে অথবা ওই সংগঠনের কোনো পদে নির্বাচিত কিংবা মনোনীত হলে তার সদস্যপদ সরাসরি বাতিল হবে। এখন ভিপি যে সিদ্ধান্ত  নিয়েছে এইটা সম্পূর্ণ ছাত্র সংসদের গঠন্তন্ত্রের বিরোধী এটি তার ব্যাক্তিগত সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্ত তিনি ছাত্র সংসদের সাথে কোন পরামর্শ না করেই নিয়েছে।‎

‎ব্যাবস্থা গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, আমরা ছাত্র সংসদে ২০জন সদস্য আছি সেক্ষেত্রে আমি একা কোন সিদ্ধান্ত জানাতে পারবো না। আমরা সবাই একসাথে বসবে এ বিষয়টা সিদ্ধান্ত নিব।

‎শিবিরের সাথে সম্পর্কের কথা জানক্তে চাইলে তিনি বলেন, ছাত্র সংসদের কেউ সরাসরি কোন রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবে না। আর সবারই আলাদা আদর্শিক জায়গা থাকে ঠিক তেমন আমারো দর্শ আছে কিন্তু আমি সরাসরি কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। আমার কোন পদ পোস্ট কিছুই নেই। আমি একটা দলকে সাপোর্ট করতেই পারি এটা আমার অধিকার।

‎‎নির্বাচনের সময় তাদের ছাত্র শিবিরের কোন প্যানেল ছিলো কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার সাথে যে চার ভাইয়েরা ছিল তাদের সাথে আমার মতদর্শের মিল ছিলো আমরা একসাথে কাজ করেছি।

‎‎ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির থেকে পোস্ট করছিল এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা পোস্ট করেছে তারাই ভালো বলতে পারবে। আমি এই বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না।

‎‎শিবিরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ফেসবুক পোস্টের সম্পর্কে তিনি বলেন, ওটা হতে পারে মতাদর্শ তাই আমি তাকে অভিনন্দন জানাইছি।

‎‎অন্যদিকে জিএস রায়হান খান বলেন, ভিপি ছাত্রদলে যোগ দিয়েছে এইটা তার ব্যাক্তিগত সিদ্ধান্ত কিন্তু এইটা ছাত্র সংসদের গঠন্তন্ত্র বিরোধী। সে ক্যাম্পাসের বাইরে আলাদাভাবে রাজনীতি করতেই পারে এইটা তার রাজনৈতিক অধিকার। 

‎‎ছাত্র শিবিরের কর্মসূচিতে উপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, ছাত্র শিবিরের প্রোগ্রামে গিয়েছিলাম ৫ আগস্ট বিষয়ক কোনো একটা ইস্যুতে ছিলো। যেইখানে সাধারণ শিক্ষার্থীরাসহ সাধারণ লোকজন প্রতিবাদ জানানোর জন্য অংশগ্রহণ করে। সেভাবে আমিও অংশগ্রহণ করি।

‎‎গকসু নির্বাচনের পরে শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতাদের পোস্টে জিএস-এজিএসকে শিবির প্যানেল বলে সম্মোধন করার বিষয়ে তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না, পোস্টকারী বলতে পারবে এব্যাপারে। 

‎‎এজিএস সামিউল হাসানের শিবিরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যার যার আলাদা আলাদা মতাদর্শ থাকতেই পারে, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিই ভালো বলতে পারবেন।

‎‎এসব বিষয়ে গকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, 'বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাতের পরে তার মতাদর্শের সাথে আমার মতাদর্শের মিল পাওয়ায় আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদান করি। কিন্তু গকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংসদের প্রতিনিধি দলীয় রাজনীতির সাথে যুক্ত হতে পারবেনা। এ কারণে আমি ছাত্রদলের কোন পদ পদবি গ্রহণ করিনি। ডা. জাফরুল্লাহ গকসু প্রতিষ্ঠা করেছে যাতে গকসুর নেতারা ভবিষ্যতে জাতীয় রাজনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে। ভবিষ্যতে আমি যেন জাতীয় রাজনীতিতে ভূমিকা রাখতে সেই উদ্দেশ্যেই আমি ছাত্রদলে যোগদান করেছি। যেহেতু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় একটি অরাজনৈতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তাই আমি ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে কোন রাজনৈতিক কার্যক্রম করবো না এবং করতে দিবোও না। পূর্বে যেমন শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করেছি ভবিষ্যতেও এই কাজ চলমান থাকবে।

‎উপেক্ষিত গঠনতন্ত্র, যা বলছে প্রশাসন

‎‎এদিকে গঠনতন্ত্রে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য যেন দায় নিতে নারাজ। সুস্পষ্ট নির্দেশনার পরও তিনি বললেন, অভিযোগের প্রয়োজনীয়তার কথা। 

‎‎গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, এ বিষয় আমি ব্যক্তিগত ভাবে অবগত কিন্তু আমি কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি৷ অভিযোগ পেলে, কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে সে বিষয় সে স্পষ্ট করেননি৷