জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা ঘিরে উত্তাল পরিস্থিতি

প্রক্টরিয়াল বডিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, প্রশাসনের বিরুদ্ধে তথ্য গোপনের অভিযোগ

Sadek Ali
মো: নিশান খান, জাবি থেকে
প্রকাশিত: ২:১৫ অপরাহ্ন, ১৭ মে ২০২৬ | আপডেট: ২:১৫ অপরাহ্ন, ১৭ মে ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের  এক নারী শিক্ষার্থীর ওপর ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসজুড়ে চরম উত্তেজনা ও আন্দোলনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার ও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন। গত শুক্রবার রাত থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা, যা শনিবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। পরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তারা জানান, গত ১৩ মে উত্থাপিত ছয় দফা দাবির পর অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় পার হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুরু থেকেই ঘটনাটি যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের দাবি, প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তারা। শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ না করে একটি এআই-নির্ভর স্কেচ প্রচার করা হয়, যা পরবর্তীতে প্রকাশিত ছবির সঙ্গে মিল না থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে ও পরের ফুটেজ প্রকাশ না করায় পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অতীতের কয়েকটি ঘটনাকে উদাহরণ টেনে তারা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। পরে আন্দোলনকারীরা প্রক্টর অফিসের তালা ভেঙে নতুন তালা লাগিয়ে দেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেন। এ সময় অফিসের দেয়াল ও বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদমূলক স্লোগান ও গ্রাফিতি দেখা যায়। আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন, প্রক্টরের পদত্যাগ, অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। একইসঙ্গে রেজিস্ট্রার ভবনসহ প্রশাসনিক কার্যক্রম অবরোধের ঘোষণা দেন তারা। অন্যদিকে, পরিস্থিতি চলাকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উপাচার্যের তীব্র বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। এক পর্যায়ে একজন শিক্ষার্থী উপাচার্যকে উদ্দেশ করে মন্তব্য করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধী শনাক্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে, যেখানে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হবে। তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং তথ্য ব্যবস্থাপনায় কারও দায়িত্বে অবহেলা হয়েছে কি না, তা তদন্তের আওতায় আনা হবে। উপাচার্য শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল পক্ষের সহযোগিতায় দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব। এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পর্যায়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের প্রতি আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন।