দেশের ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ
দেশের ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং এর বিস্তার ও সংক্রমণের ধরন উদ্বেগজনক হারে পরিবর্তন হচ্ছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে আইইডিসিআর। সংস্থার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে দেশে রেকর্ড করা চারটি নিপাহ কেসের সবাই মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে একটি কেস ছিল প্রথমবারের মতো অ-মৌসুমি নিপাহ কেস, যা শীতকাল ছাড়া আগস্ট মাসে শনাক্ত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারীতে চারজন রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন এবং প্রত্যেকেই মারা গেছেন। নওগাঁয়ের ৮ বছরের একটি শিশুর সংক্রমণ হয়েছিল বাদুড়ের আধাখাওয়া ফল (কালোজাম, খেজুর, আম) খাওয়ার মাধ্যমে, যা নতুন সংক্রমণ পথ হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৭৮৬
আইইডিসিআর জানিয়েছে, দেশে মোট ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৫ জেলায় নিপাহ ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। বিশেষ করে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। নিপাহ ভাইরাসে গ্লোবালি মৃত্যুর গড় হার ৭২%, যেখানে দেশে ২০২৫ সালে শনাক্ত চারজনেরই মৃত্যুহার ১০০%।
নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ সারা বছর ঘটতে পারে এবং বাদুড়ের লালা বা মূত্রে দূষিত আধাখাওয়া ফলও সংক্রমণের উৎস হতে পারে। এছাড়া আক্রান্ত ব্যক্তিরা সরাসরি অন্য ব্যক্তিকে সংক্রমণ ছড়াতে পারেন; প্রায় ২৮% ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটে।
আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭৫০
সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরীন, যিনি বলেন, “অ-মৌসুমি কেস এবং নতুন সংক্রমণ পথ আমাদের জন্য বড় ওয়ার্নিং সিগন্যাল। নিপাহ ভাইরাস এখন শুধু শীত বা খেজুরের রসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটা সারা বছর এবং বহুমুখী সংক্রমণের হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”
নিপাহ ভাইরাস জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, নতুন সংক্রমণ পথের আবিষ্কার দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানাচ্ছে।





