বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সফল কিডনি প্রতিস্থাপন

Sanchoy Biswas
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৫:৪১ অপরাহ্ন, ২৫ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ৫:৪১ অপরাহ্ন, ২৫ মার্চ ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেফ্রোলজি ও ইউরোলজি বিভাগের তত্ত্বাবধানে সফলভাবে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। সফল অস্ত্রোপচারের পর আজ বুধবার রোগীকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়।

নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলামের অধীনে ভর্তি এই রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগ। দাতা (ডোনার) থেকে কিডনি অপসারণ দলের নেতৃত্বে ছিলেন ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. তৌহিদ মো. সাইফুল ইসলাম দিপু। অন্যদিকে, গ্রহীতার শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপন দলের নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক একেএম খুরশিদুল আলম ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. রফিকূল ইসলাম।

আরও পড়ুন: দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে আরও ১৭ শিশুর মৃত্যু

উল্লেখ্য, দেশের এক প্রত্যন্ত অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত এই রোগী সম্পূর্ণভাবে ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল ছিল, যা রোগী ও তার পরিবারের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে রোগীর মায়ের আকুতিতে বর্তমান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সহায়তায় কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য এ বছরের ২২ জানুয়ারি রোগী বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

২৮ জানুয়ারি মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক কিডনি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ২ মার্চ রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপনের সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়, যেখানে সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে কিডনি দান করেন তার গর্ভধারিণী মা।

আরও পড়ুন: দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ১৬ জনের মৃত্যু

সার্জারির পর রোগী ও তার মা উভয়ই সুস্থ থাকায় আজ ২৫ মার্চ তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র প্রদান করা হয়। নিজের সন্তানকে কিডনি দানকারী মা তার ও তার সন্তানের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।

রোগীর ছাড়পত্র প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন রোগীকে আর্থিকভাবে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানকারী জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ধন্যবাদ জানান এবং দেশে এ ধরনের জটিল চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ডা. মো. রফিকূল ইসলাম বলেন, দেশে আইনি জটিলতার কারণে প্রয়োজনের তুলনায় কিডনি প্রতিস্থাপনের সংখ্যা এখনো অনেক কম। তবে বাংলাদেশের চিকিৎসকরা অত্যন্ত দক্ষ এবং তারা বিভিন্ন জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সক্ষম।

তিনি আরও বলেন, রোগীদের আস্থা অর্জন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ধীরে ধীরে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা কমে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।