সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও আতেফ নাজিবের মৃত্যুদণ্ড
সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ, তার ভাই মাহের আল-আসাদ এবং চাচাতো ভাই আতেফ নাজিবকে দেশটির গৃহযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ( ১১ আগস্ট) দামেস্কের ফৌজদারি আদালত বর্তমানে রাশিয়ায় নির্বাসনে থাকা বাশার আল-আসাদকে পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। তাকে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল
একই আদালত তার ছোট ভাই মাহের আল-আসাদ, যিনি বর্তমানে রাশিয়ায় বসবাস করছেন, তাকেও পূর্বপরিকল্পিত হত্যা ও নির্যাতনের দায়ে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
দক্ষিণ সিরিয়ার দারা প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তা প্রধান আতেফ নাজিবকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারিতে সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে।
আরও পড়ুন: শিশুদের টিকা ১৮ থেকে ১১টিতে কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের
২০১১ সালে দারায় বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন নাজিব। ওই দমন-পীড়ন থেকেই দেশটিতে বিদ্রোহ এবং পরবর্তীতে গৃহযুদ্ধের সূত্রপাত হয়। রায় ঘোষণার সময় কারাগারের পোশাক পরে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিলেন নাজিব।
আদালতের মতে, তার অপরাধের মধ্যে রয়েছে হত্যা, ‘১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা’ এবং ‘নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানো’।
রায়ে সিরীয়দের মধ্যে স্বস্তি
আল-আসাদ ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে দেওয়া এই রায়ই সাবেক সরকারের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চলতি বছর বিচার শুরু করা অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের অধীনে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ রায়।
আদালতে বক্তব্য দেওয়া বিচারক আল-আরিয়ান বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণে সাবেক সিরীয় নেতার অপরাধে ভূমিকা স্পষ্ট হয়েছে। তিনি ছিলেন ‘সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী’ এবং অপরাধ সংঘটনে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করেছিলেন।
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক থেকে আল জাজিরার ওবাইদা হিত্তো বলেন, আজকের রায় সিরীয় জনগণের জন্য ‘অনেক স্বস্তি’ বয়ে আনবে এবং তাদের নিরাময় প্রক্রিয়ায় অবদান রাখবে।
তিনি বলেন, ‘তারা দীর্ঘদিন ধরে এটির অপেক্ষায় ছিল। তারা চায়, যারা তাদের সন্তানদের নির্যাতন করেছে, ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছে এবং তাদের সম্প্রদায়গুলো ধ্বংস করেছে, তাদের এসব অপরাধের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।’
হিত্তো বলেন, আল-আসাদ সরকারের অধীনে সংঘটিত অপরাধে অভিযুক্ত অন্যদের জন্যও এই রায় একটি শক্তিশালী আইনি নজির তৈরি করবে।
আল জাজিরার ওসামা বিন জাভেদ বলেন, ‘সিরিয়ার বিভিন্ন শহরের মানুষ শুধু আল-আসাদের জন্য নয়, বরং তার অধীনে কাজ করা নির্যাতনকারীদেরও বিচারের মুখোমুখি দেখতে চায়।’





