লন্ডনের বিলাসবহুল হোটেলে সৌদি যুবরাজের মৃত্যু: তদন্তে অতিরিক্ত মাদক ও অ্যালকোহল সেবনের প্রমাণ

Sanchoy Biswas
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:৩৫ অপরাহ্ন, ২৪ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২:১৮ পূর্বাহ্ন, ২৫ জুলাই ২০২৬
ছবিঃ সংগৃহীত
ছবিঃ সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের লন্ডনের একটি বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলে ২৯ বছর বয়সী এক সৌদি যুবরাজের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। যুক্তরাজ্যের মৃত্যু তদন্তকারী কর্মকর্তা (করোনার) জানিয়েছেন, অতিরিক্ত অ্যালকোহল, পার্টি ড্রাগস এবং উদ্বেগ কমানোর ওষুধের মারাত্মক মিশ্রণের কারণে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তদন্তে হত্যা বা আত্মহত্যার কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় ঘটনাটিকে ‘দুর্ঘটনাবশত মৃত্যু’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

মৃত যুবরাজের নাম আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ বিন জালাউয়ি আল সৌদ। গত বছরের ২৫ নভেম্বর লন্ডনের কেনসিংটন এলাকার একটি ম্যারিয়ট হোটেলের কক্ষের বাথরুম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তালাবদ্ধ কক্ষ খুলে তাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে জরুরি চিকিৎসাসেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জানা যায়, তিনি ১৯ নভেম্বর এক সপ্তাহের জন্য ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইরান

ইনার ওয়েস্ট লন্ডন করোনারস কোর্টের তদন্তে তার শরীরে উচ্চমাত্রার নেশাজাতীয় দ্রব্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়। বিষতাত্ত্বিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, তার রক্তে প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ২২২ মিলিগ্রাম অ্যালকোহল ছিল, যা ইংল্যান্ডে গাড়ি চালানোর বৈধ সীমার প্রায় তিন গুণ বেশি।

এ ছাড়া তার শরীরে জিএইচবি (GHB) নামের পার্টি ড্রাগ, গাঁজার উপাদান এবং উদ্বেগ কমানোর ওষুধ জ্যানাক্স (অ্যালপ্রাজোলাম)-এর বিপজ্জনক মাত্রার উপস্থিতিও শনাক্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তে কোনো দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের মতে, অ্যালকোহল ও একাধিক ওষুধের বিষাক্ত প্রতিক্রিয়াই তার মৃত্যুর মূল কারণ।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ১০০ ডলার ছাড়াল

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ হত্যা বা আত্মহত্যার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখে। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মৃত্যুর আগের দিন সন্ধ্যায় যুবরাজ একাই হোটেলের বাইরে ধূমপান করতে যান এবং পরে একাই নিজ কক্ষে ফিরে আসেন। কক্ষে অন্য কারও প্রবেশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়নি।

সহকারী করোনার জিন হারকিন রায়ে বলেন, “যুবরাজ আবদুল্লাহ নিজের জীবন শেষ করতে চেয়েছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একাধিক মাদক ও ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় দুর্ঘটনাবশত তার মৃত্যু হয়েছে।”

শুনানিতে উপস্থাপিত চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে থেকেই যুবরাজ মাদকাসক্তি ও মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। গত বছরের আগস্টে তিনি লন্ডনের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব) ভর্তি হয়ে অ্যালকোহল ও ওষুধের আসক্তির চিকিৎসা নেন। পরে অক্টোবরে আরেকটি ক্লিনিক থেকে ছাড়পত্র পেলেও চিকিৎসকদের নির্ধারিত অনলাইন ফলোআপ সেশনে আর অংশ নেননি।

যুবরাজের মৃত্যুর কয়েক দিন পর, ২ ডিসেম্বর সৌদি আরবের রয়্যাল কোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আবদুল্লাহকে রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠরা শান্ত, ভদ্র ও পরোপকারী ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রিয়াদের ইমাম তুর্কি বিন আবদুল্লাহ মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রাজপরিবারের জ্যেষ্ঠ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।